• 87

‘বাংলা ভাষা-সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ’

‘বাংলা ভাষা-সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ’

নিউইয়র্কের জনপ্রিয় কমিউনিটি নিউজ নেটওয়ার্ক এফএম-৭৮৬’র নিয়মিত আয়োজন ‘নিউইয়র্ক ডায়েরি’-তে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ রাব্বী আলম। কথা বলেছেন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডসহ নানা ইস্যুতে।


আরজে আরিয়ান: এবারের মাতৃভাষা দিবস কিভাবে উদযাপন করলেন? 

ড. রাব্বী আলম: সবাইকে মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমরা এবার বঙ্গবন্ধু পরিষদের মাধ্যমে মুলধারার সাথে যুক্ত হয়ে বেশ জাকজমকপূর্ণভাবে উদযাপন করেছি। আপনি জেনে অবাক হবেন আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার’র দৌহিত্র কার্টার সেন্টার এর চেয়ারম্যান জেসন কার্টার আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। মিশিগান স্টেট থেকে স্টেট সিনেটর পল ওয়াইনো, উনি সরকারিভাবে বিশেষ করে সিনেট ও হাইসের সমন্বয়ে আমাদের রিকগনাইজ করেছেন। এর বাইরে প্রচুর মুলধারার নেতারা আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। বাংলাদেশ থেকেও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও আমাদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন আমাদের মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে। আমাদের বঙ্গবন্ধু পরিষদ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। যার মাধ্যমে আমরা এখানে চেষ্টা করছি বাংলা সংস্কৃতি, বাংলা ভাষাকে বিশ্বমঞ্চে তুল ধরার জন্য। 


বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাথে কি ভিন্ন দল বা মতের মানুষ সম্পৃক্ত হতে পারবে?

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনাকে ধারন করলে অবশ্যই পারবেন। বঙ্গবন্ধু তো সার্বজনীন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। তার কর্ম, তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা অস্বীকারকারী বাদে যে কাউকে আমি স্বাগত জানাই এই পরিষদে। যদিও অন্য দলের নেতাকর্মীদের জন্য এই কাজটা অতটা সহজ নয়। তবে আমার পক্ষ থেকে স্বাগত জানাই।

 

ইউএস আর্মিতে কাজ করেছেন, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে কেমন লাগে?

এক কথায় বললে বিদেশের মাটিতে বাংলা কে তুলে ধরবার আনন্দ ভাষায় বর্ণনা করতে পারবো না। আমি যখন ইউএস আর্মিতে ছিলাম তখন আমার সুযোগ হতো বিশেষ দিবসে বাংলাদেশের পতাকা কাধে করে দৌঁড়ানোর। এ যে কি আনন্দের আরিয়ান,এ যে কি তৃপ্তির! মনে হতো আমি পুরো বাংলাদেশের পনেরো কোটি মানুষকে কাধে নিয়েছি। আমি সকলকে বলবো আসুন আমরা বাংলাদেশকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি। যে মাটির ঘ্রাণ এখনো আমার গায়ে, আমাদের গায়ে। সেই এক টুকরো ভূখণ্ড-কে তুলে ধরার জন্যই আমার এই প্রয়াস।


বাংলাদেশের মানুষ বা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দ্যেশে কী বলবেন?

ড. রাব্বী আলম: যারা উচ্চ পর্যায়ের রয়েছেন তাদের উদ্দ্যেশে আমার আহবান দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে মন-প্রাণ দিয়ে। হ্যাঁ আমাদের ভুল-ভ্রান্তি থাকতে পারে। তবে আমাদের সত্যিকারের মানুষ হতে হবে। এটা একটা চরম সত্য যে ক্ষমতা কখনোই এক চেয়ারে থাকেনা। দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও অবকাঠামোগত যে উন্নয়ন, সেই উন্নয়নকে সামনে রেখে আমাদের তো পথ চলতেই হবে। তবে আমাদের সততা ও আদর্শ যাতে বিলুপ্ত না হয় সেটা মাথায় রেখে পথ চলতে হবে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় যেন আপনি বাধা না হয়ে দাঁড়ান, সেটাই আমার আহবান। এই বাংলাদেশ আমার, আমাদের। হ্যাঁ সমালোচনা করতেই পারেন, তবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার কিংবা ম্যানুপুলেট করবার চেষ্টা করা কিন্তু ঠিক না। আসুন আমরা দেশকে ভালোবাসি, দেশকে তুলে ধরি। 


২০ বছর আগের আর এখনকার আমেরিকাতে বাংলাদেশিদের অবস্থান কেমন? 

আরিয়ান, আমি যদি ২০০০ সালের দিককার কথাও বলি তখন আমরা এতোটাই মাইনোরিটি কমিউনিটি ছিলাম যে, আমরা যে এশিয় এটা বোঝাতে হলে অন্য দেশের নামের সাহায্য লাগতো। আমেরিকানরা ওই অর্থে আমাদের চিনতোই না। আজ বেশ ভালো লাগে যখন দেখি আমরা ধীরে ধীরে মেইনস্ট্রিম পলিটিক্স এ যুক্ত হচ্ছি। কমিউনিটি হিসেবে আমাদের পরিধিও বাড়ছে দিনের পর দিন। আমাদের অগ্রযাত্রা, বাড়ছে এই দেশে লাল সবুজের পতাকা, এটা এক বিশাল প্রাপ্তি। 


দশ বছর পর এখানে আমাদের অবস্থান কেমন আশা করেন?

আমি তো স্বপ্ন দেখি এখানে বাংলাদেশিরা সিনেটর হবে, মেয়র হবে, গভর্ণর হবে, কংগ্রেসম্যান হবে। আর একটা সময় আসবে যখন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একটা বিরাট অংশ প্রেসিডেন্টিয়াল প্রশাসনে কাজ করবে। এদের অনেকেই নোবেল এর জন্য মনোনীত হবে। 


দর্শক-শ্রোতাদের উদ্দ্যেশে যদি কিছু বলতেন? 

ড. রাব্বী আলম: বাংলাদেশ যে উন্নয়নের গতিতে চলছে সেই ধারাবাহিকতা আমরা যদি আরো অন্তত দশ বছর ধরে রাখতে পারি, তাহলে জাপানের কাছাকাছি বা মালয়েশিয়ার সমতায় আমাদের অর্থনীতি পৌঁছে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।তাই আমি এফএম-৭৮৬’র দর্শক শ্রোতাদের একটা কথাই বলবো, আসুন দেশকে ভালোবাসি, দেশের মানুষকে ভালোবাসা। এক হয়ে একসাথে দেশের জন্য কাজ করি। 


আরজে আরিয়ান: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সময় দেয়ার জন্য।

আপনার মতামত লিখুন :