• 162

‘হালাল উপায়ে বাড়ি ক্রয় করুন’

‘হালাল উপায়ে বাড়ি ক্রয় করুন’

নিউইয়র্কের কমিউনিটি নিউজ নেটওয়ার্ক এফএম ৭৮৬’র নিয়মিত আয়োজন ‘নিউইয়র্ক ডায়েরি’-তে অতিথি হয়ে এসেছিলেন ‘ইজারা সিডিসির’ শরীয়াহ ফাইন্যান্সিং অ্যাডভাইজার আব্দুল সাত্তার। হালাল উপায়ে বাড়ি কেনাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। 


আরজে মোহনা: কেমন আছেন?

আব্দুল সাত্তার: আলহামদুলিল্লাহ,ভালো আছি। ইতোমধ্যে আমি করোনা ভ্যাকসিনের দুটি ডোজও সম্পন্ন করে ফেলেছি।


আরজে মোহনা: এই মৌসুমে মানুষের বাড়ি ক্রয়ের আগ্রহ কেমন দেখছেন?

আব্দুল সাত্তার: এটা ঠিক যে অনেকেই আনএমপ্লয়মেন্টে ছিলেন। তবুও খুশির বিষয় হচ্ছে বাড়ি কেনার ব্যাপারে আগ্রহে কারো কোনো কমতি নেই। সবাই আগ্রহী। ইউএসএ-তে বাড়ি কেনাটা সবারই স্বপ্ন।


ইজারা সিডিসি’র সাথে যুক্ত আছেন কতো দিন ধরে?

ইজারা সিডিসি’র সাথে আমার সংযুক্ততা ২০০৩ থেকে। কিছু বন্ধু মিলে শুরু করেছিলাম হালাল উপায়ে বাড়ি কেনার বিষয়টি মাথায় রেখেই। যদিও আমি এর বাইরেও একটা জব করি। এখানে যে সবটা সময় দিতে পারি তা নয়।


ইজারা সিডিসি’র মুল কার্যক্রমগুলো কি কি? 

এখানে যারা হালাল উপায়ে সুদ মুক্ত ইনভেস্টমেন্ট এবং লোনে বাড়ি কিনতে চান তাদেরকে বাড়িটা নিয়ে দেওয়া হয়। একটা বিষয় ক্লিয়ার করা প্রয়োজন, ইজারা-সিডিসি কোনো ব্যাংক নয়। আমরা ব্যাংকের মাধ্যমে লোন প্রসেস করিয়ে বা এমনিভাবে বাড়িটা নিয়ে দেই। বাড়ি কেনার ব্যাপারে আমাদের কার্যক্রম কানাডাতেও চলমান।


হালালভাবে লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কি?

একদম প্রথম শর্ত হচ্ছে, যিনি বাড়ি কিনতে চান তাকে অবশ্যই এমপ্লয়মেন্ট হতে হবে। যতোই ব্যাংকে অর্থ থাকুক বা দেওয়ার মতো ক্যাপাসিটি থাকুক না কেন, একটা চাকরির সুত্র ধরেই যে কাউকে লোন দেওয়া হয়।


বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে প্রধানত কি কি প্রয়োজন? 

এখানে একটা বিষয় সবার জানা উচিত। আমরা সারা বছর সবাই কম বেশি যাই উপার্জন করি না কেন, ট্যাক্স ফাইলিং এর ব্যাপারে আমরা উদাসীন। ট্যাক্স ফাইলিং করতে তো চাইই না। করলেও সেখানে হয়তো ক্রেডিট কম দেখাই। এটা করে আদতে কোনো লাভই হয় না। সেখানে বরং একটু বাড়িয়ে লিখলেই এটা বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে প্লাস পয়েন্ট। কারণ কেউ যদি বাড়ি কিনতে চায় সেক্ষেত্রে তাকে বিগত দু'বছরের ট্যাক্স ফাইলিং দেখাতে হবে। তারপর ৫%,১০%,১৫% বা ২০% ডাউন পেমেন্টর মাধ্যমে বাড়ি নিতে পারেন।


শরীয়াহভিত্তিক লোন পেতে করণীয় কি?

আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে, যেই সকল ব্যাংক হালালভাবে সুদ দিয়ে লোন দেন তাদের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেই। এক্ষেত্রে এখানেও কিছু ব্যাংক আছে যারা মুসলিম শরীয়াহ মেনেই লোন দিয়ে থাকেন। ইউএসএ তে সর্বপ্রথম এই সুবিধা চালু করে কুয়েত। যদিও ১৯৯২ তে তারা তাদের ব্যবসা গুটিয়ে চলে যায় তবুও সেই সিস্টেমগুলো রয়ে গিয়েছে।


হালাল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি চার্জ তো কনভেনশনাল ব্যাংক থেকে বেশি...

এটা সত্য। কারণ, এমনিতেই যখন আপনি কোনো ব্যাংক থেকে লোন নিচ্ছেন তখন দুটো মাধ্যম থাকছে। যে নিচ্ছে এবং যে দিচ্ছে। কিন্তু যখন কোনো শরীয়াহ ফাইন্যান্সিং এর মাধ্যমে যাচ্ছেন তখন প্রক্রিয়াটা ট্রায়াংগেল হয়ে গেলো। তিনটা মাধ্যম হওয়াতে এটা আর হারাম রইলো না এবং যেহেতু একটা মাধ্যম বেশি হলো তাই পার্সেন্টেজে কিছুটা বেশি। যেমন এমনিতেই ৩% হলে তখন হয়তো ৩.৫%। তবে ইজারা সিডিসি এই পার্সন্টেজ টা নামমাত্র যৎসামান্যই নিয়ে থাকে।


হালাল উপায়ে বাড়ি ক্রয়ে সবার উদ্দেশ্য কিছু বলুন?

আব্দুল সাত্তার: আমরা মুসলিমরা যখন খাবার খাই হালাল খাবার খুঁজি, হালাল রুজির ব্যাবস্থা করি, হালাল পোশাক পরিধান করি। তাহলে কেনই বা আমরা সারা জীবন থাকার জন্য বা এতো বড় একটা সম্পদ কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই হালাল ব্যাপারটা খেয়াল রাখা উচিৎ এবং নৈতিক দায়িত্ব। 


আপনার সাথে যোগাযোগের মাধ্যম? 

আব্দুল সাত্তার: আমাদের ফেইসবুক পেজ আছে, ওয়েব এড্রেস দেওয়া আছে, সেখানে আমার হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার দেওয়া আছে, ইজারা সিডিসি-এর অফিসের ঠিকানাও দেওয়া আছে। যে কেউ তাদের সুবিধা মতো আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। 


আপনার মতামত লিখুন :