• 38

প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা

বাংলাদেশের ৫০: রথীন্দ্রনাথ রায়ের ভাবনা

বাংলাদেশের ৫০:  রথীন্দ্রনাথ রায়ের ভাবনা

রথীন্দ্রনাথ রায়

স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ। উদযাপন হচ্ছে সূবর্ণজয়ন্তী। দীর্ঘ পথচলায় কেমন আছে প্রিয় দেশ। আছে কতটা অর্জন; হারানোর ব্যথা। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ধারাবাহিকভাবে মতামত তুলে ধরা হচ্ছে। এবারের আয়োজন রথীন্দ্রনাথ রায়কে নিয়ে। 


৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সেই অমর ভাষণ শুনে জগন্নাথ হল ছেড়ে আমি লক্ষ্মীপুরে আমাদের বাড়ি চলে যাই। আমরা জানতাম মুক্তিযুদ্ধ হবে। কারণ বঙ্গবন্ধু সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তার ভাষণে। আমি তখন ভাওয়াইয়া ও লোকগীতি ছেড়ে গণসঙ্গীত গাইছি। সেই সময়ের মহীরুহ আবদুল লতিফ, শেখ লুৎফুর রহমান, অজিত রায়, আলতাফ মাহমুদ, সুখেন্দু চক্রবর্তীর কাছে গণসঙ্গীত শুনে বঙ্গবন্ধুও প্রশংসা করতেন। তাই তাঁর ডাকে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যুদ্ধে চলে যাই। আমরা স্বাধীন বাংলা বেতারে মুসলমান, বৌদ্ধ, হিন্দু, খ্রিস্টান সকলে একসাথে কাজ করেছি, এক ফ্লোরে পাশাপাশি ঘুমিয়েছি। কেউ আমরা আমাদের ধর্ম নিয়ে ভাবিনি, কেউ বিভাজনও করেনি।


আমি সেই ৯ মাসে সবসময় ভাবতাম বাংলাদেশ স্বাধীন হলে আমাদের একমাত্র পরিচয় হবে, আমরা সকলে বাঙালি। দেশ স্বাধীন হলো, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলো। আমরা আবার পিছন দিতে যেতে থাকলাম। এইভাবে স্বপ্ন ভাঙবে ভাবিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এসে আমাদের আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে এনেছেন।


এই সূবর্ণজয়ন্তীর দিনে আমার একটিই স্বপ্ন, কে সরকারে আসবেন, কে বিরোধী দলে থাকবেন তা জনগণ ঠিক করবে-কিন্তু সকলকেই মুক্তিযুদ্ধে, বাংলাদেশের মূল আদর্শে, বঙ্গবন্ধুকে মানতে হবে। কারণ আমরা এই দেশকে স্বাধীন করেছি মুক্তিযুদ্ধ করে। এই দেশটি মুক্তিযুদ্ধের ফসল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কেউ ৩০ লাখ মানুষের রক্তে ভেজা এই দেশের নেতৃত্বে আসতে পারবে না। আমি মনে করি রাজনীতি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। এতো মানুষের আত্মদানকে সম্মান করলে দেশকেই সম্মান করা হবে। এই সূবর্ণজয়ন্তীর বছরে আমরা সকলে যেন এই বিষয়টি চিন্তা করি।

আপনার মতামত লিখুন :