• 174

‘বাইডেনের অভিষেকে প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছি’

‘বাইডেনের অভিষেকে প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছি’

এফএম-৭৮৬ এর জনপ্রিয় শো ‘নিউইয়র্ক ডায়েরি’র এবারের পর্বে অতিথি ছিলেন ওয়াশিংটন ডিসি আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, স্পেকট্রাম ফিন্যান্সিয়ালসের সিএফও, ফোবানা কনভেনশন-২০২১ এর কনভেনর জেড আই রাসেল (নিপ্পন) এবং ফোবানা কনভেনশন-২০২১ এর চিফ পেট্রন কবির পাটোয়ারী। তাদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ছিলেন আরজে মোহনা


জো বাইডেনের বহুল প্রত্যাশিত অভিষেক হয়ে গেলো, আপনার অনুভূতি জানতে চাই।

কবির পাটোয়ারী: এ এক অসাধারণ অনুভূতি। আমি এবং আমার পরিবার যেহেতু ডেমোক্র্যাট পার্টিকে সমর্থন করি, তাই অভিষেকটা আমরা উপভোগ করেছি। পছন্দের প্রেসিডেন্ট যখন শপথ গ্রহণ করে তখন কার না ভালো লাগে! তার কাছে আমাদের প্রত্যাশাও অনেক। আশাকরি, ধীরে ধীরে তিনি সেগুলো সম্পন্ন করবেন। 


জেড আই রাসেল: এ নিয়ে আমি আমেরিকাতে পাঁচজন প্রেসিডেন্ট দেখেছি। সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট কখন কী বলতেন আর কী করতেন, তার কোনো গ্যারান্টি ছিলো না। কিন্তু এখন আমরা একটা গাইড লাইনের মধ্যে দিয়ে যাবো বলে আশা করছি। আমেরিকা মানেই ইমিগ্রেন্টদের দেশ। ডোনাল্ড ট্রাম্প চার বছরে কীভাবে মুসলিম দেশগুলোর সাথে যুদ্ধ লাগানো যায় সেই চেষ্টাটাই করেছে, অনেকগুলো দেশকে ব্ল্যাক লিস্টেড করেছে। এবার সবাই প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিতে পারবে। 


বাইডেনের কাছে কী কী প্রত্যাশা করেন?

কবির পাটোয়ারী: জো বাইডেনের অনেক অভিজ্ঞতা, এর আগে তিনি অনেকগুলো পদে দায়িত্বও পালন করেছেন। তার কথার সাথে কাজের মিল আমরা বিগত দিনে দেখেছি। তার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে আমরা অনেক উপকৃত হবো। বিশেষ করে অবৈধ ইমিগ্রেন্ট যারা আছেন, এমন ১১ মিলিয়ন মানুষকে বৈধতা দেওয়ার কথা বলেছেন। বাইডেনের কাছে আমার প্রত্যাশা, দ্রুত এই বিষয়টি বাস্তবায়িত হবে।


অবৈধ হওয়ায় অনেকে ভয় এবং সংকোচ থেকে নিজেদেরকে আড়ালে রাখে। তারা কীভাবে এই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারে?

কবির পাটোয়ারী: তাদেরকে অবশ্যই বাংলাদেশি অথবা অন্য যে কোনো দেশের ইমিগ্রেন্ট ল’ইয়ারদের শরণাপন্ন হতে হবে। অনিচ্ছাকৃত ছোটখাটো ভুলেও অনেক সময় কাগজপত্র ঠিক হয়না। সেই সকল ভুল এড়ানোর জন্য অবশ্যই অভিজ্ঞ ল’ইয়ারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। 


ভার্চুয়ালি হয়ে গেলো ফোবানার ৩৪তম কনভেনশন। অভিজ্ঞতা কেমন?

কবির পাটোয়ারী: আমাদের যে প্রত্যাশা ছিল সেটা তো আসলে ভার্চুয়ালি পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও কোভিড পরিস্থিতিতে তারা যে এটা করতে সাহস করেছে, সেটাই অনেক বড় ব্যাপার। আমাদের কল্পনারও বাইরে ছিল। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই কনভেনশন সফল হয়েছে, অবশ্যই তারা প্রশংসার দাবি রাখে। তাদেরকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। অন্তত তাদের জন্য আমরা ফোবানার স্বাদ পেয়েছি। 


৩৫তম ফোবানার নতুন যাত্রায় বিশেষ কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন?

কবির পাটোয়ারী: এবারের ফোবানা ওয়াশিংটনে হওয়ার কথা চলছে। ওয়াশিংটনে ফোবানা মানেই সবার অন্যরকম আগ্রহ। আমাদের ইচ্ছা আছে ‘গ্যালট কনভেনশন সেন্টার’-এ এই আয়োজনটা করার, যেটি ওয়াশিংটন ডিসির সব থেকে বড় সেভেন স্টার হোটেল। বুকিংও দেওয়া আছে। সবকিছু আমাদের অনুকূলে থাকলে আশাকরি সুন্দর একটা ফোবানা উপহার দিতে পারবো, যেটা অন্যান্য স্টেটের জন্যও উদাহরণ হয়ে থাকবে। এ নিয়ে আমাদের ব্যাপক পরিকল্পনাও রয়েছে। ওয়াশিংটনের প্রায় ৩০টির মতো সংগঠন আমাদের সাথে আছে। 


জেড আই রাসেল: করোনা মহামারিতে এটা নিঃসন্দেহে কষ্টকর। আমরা যারা কমিটিতে আছি তারা একত্র হতে পারছি না। ৩৫তম কনভেনশনের সাথে আমরা বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০বছর এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ বছর উদযাপন করছি। আমাদের শক্তিশালী কমিটি আছে, তারা কাজ করছে। এছাড়া বাইরের অরগানাইজেশনগুলোও সময় মতো চলে আসবে। কনভেনশনের সময় কানাডা, ইউকেসহ ইউরোপের ৬-৭টি দেশ থেকে বিভিন্নজন থাকবেন। বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টসহ উচ্চপদস্থ ৫-৭ জন থাকবেন। ইতোমধ্যে তাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের সবাই ভ্যাকসিন পেয়ে গেলে এবারের ফোবানা খুব ভালোভাবেই উৎযাপন করতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।


অবৈধ অভিবাসীদের যদি বৈধতা দেওয়া হয় তাহলে ফোবানারও তো প্রসার হওয়ার কথা... 

কবির পাটোয়ারী: শুধু আমাদের দেশেরই না, অন্যান্য সকল দেশের যেসব নাগরিকরা এখানে আছেন তাদেও কাগজপত্র যদি ঠিক হয়ে যায়, তাহলে সেটা অবশ্যই আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত আনন্দের। ফোবানার আগেই সব ঠিক হয়ে গেলে তারা স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে, আনন্দের সাথে উপস্থিত থাকতে পারবেন। প্রেসিডেন্ট রিগ্যানের পর এবারই সবাই ইমিগ্রেন্টদের সমস্যা সমাধানে আশাবাদী।


ফোবানার সাথে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াটা কীভাবে সম্পন্ন হয়?

জেড আই রাসেল: ফোবানা সংগঠনের সংগঠক। বাৎসরিক ফি দিয়ে কোনো একটি সংগঠনকে ফোবানার মেম্বারশিপ নিতে হবে। তাদের মধ্যে থেকেই পরবর্তীতে ফোবানার এক্সিকিউটিভ কমিটি মেম্বার, সেক্রেটারি, ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রেসিডেন্ট এসব নির্বাচিত হন। আমি ১৯৯৪ সাল থেকে ফোবানার সাথে যুক্ত আছি, যদিও এটি একটি লম্বা প্রক্রিয়া। চাইলে কেউ বাংলাদেশ থেকেও ফোবানার মেম্বারশিপ পেতে পারে। 


ফোবানার নিয়ম-কানুনগুলো কেমন?

কবির পাটোয়ারী: প্রথমে একটা নির্দিষ্ট ফি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। যে শহরেই ফোবানা হোক না কেন, তারা চাইলেই সেখানে প্রতিনিধি পাঠাতে পারে। যে সংগঠন দুই বছরের জন্য ফোবানার সাথে থাকবে তারা ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারে। ফোবানার যে কমিটি আছে ভোটের মাধ্যমেই তার প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি নির্বাচিত হয়। এমনকি কোন শহরে ফোবানা হবে সেটিও ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়। সর্বোপরি ফোবানা গণতন্ত্র মেনেই চলে। এর যে ট্রেডমার্ক আছে সেটি কেউ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতে পারবে না।


এবারের ফোবানা নিয়ে কী পরিকল্পনা?

কবির পাটোয়ারী: ফোবানা মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দিয়ে আসছে। এবারে আমরা ভেবেছি, অটিজম বাচ্চাদের জন্য কিছু গিফটের ব্যবস্থা করতে। ফোবানার বিজনেস মিটিংগুলোতে এখন ১৫-২০টি দেশের ব্যবসায়ীরা আসেন। যারা সাইন্স নিয়ে আছেন তাদের জন্যও সেমিনার আছে। এবার ইয়ুথদের জন্য আলাদা মঞ্চ করার ইচ্ছা আছে, যেন তারা তাদের মতো করে অনুষ্ঠান করতে পারে। 


করোনাকালে ফোবানা কতটা মানবিক কাজে অংশগ্রহণ করেছে?

কবির পাটোয়ারী: করোনার শুরুর দিকে যখন মাস্ক, গøাভস, স্যানিটাইজারের সংকট ছিলো তখন সেগুলো প্যাকেট করে করে আমরা মানুষের বাসায় বাসায় পৌঁছে দিয়েছি। যেসব ফ্যামিলির খাদ্য সংকট ছিলো আমরা তাদের বাসায় খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। যেসব ফ্যামিলিতে উপার্জনক্ষম মানুষ মারা গেছেন তাদের কিছুটা হলেও আর্থিক সহায়তা করার চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশেও ফোবানা কাজ করেছে। বিভিন্ন জায়গায় গ্রোসারি পণ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শীতের সময় কম্বল বিতরণেরও ব্যবস্থা করেছি।


জেড আই রাসেল: মহামারিকালে আমেরিকাতে ৫০ হাজার ডলার খরচ করেছি আমরা। বাংলাদেশে ৭টি জেলায় ফোবানা সংগঠন রয়েছে। যেখানে আমরা ৪০০ পরিবারে স্কুল আইটেম সাপ্লাই করেছি। বাংলাদেশে প্রায় ৩০ হাজার পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিয়েছে ফোবানা। 


তরুণ প্রজন্মকে কীভাবে ফোবানার আকৃষ্ট করবেন?

জেড আই রাসেল: পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটা মাইলফলক তৈরি করতে চাই। শুধু বাংলায় নয় চাইলে তারা ইংরেজিতেও পারফর্ম করতে পারে। যারা এখানে বড় হয়েছে তাদেরকে এভাবেই আমরা কাছে টানতে পারি। ওদের চাহিদা পূরণ করেই বাংলাদেশের শেকড় বোঝাতে হবে। এবার বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে সবার শাড়ি, লোগো এবং একই পোশাক পরিধান করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটাও কিন্তু এই প্রজন্মের মধ্যে অনেক বেশি আগ্রহের সৃষ্টি করবে।

আপনার মতামত লিখুন :