• 271

‘মুসলিম নিষেধাজ্ঞা’ তুলে নেয়ায় বাইডেনকে সাধুবাদ

‘মুসলিম নিষেধাজ্ঞা’ তুলে নেয়ায় বাইডেনকে সাধুবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পরপরই পূর্বসূরী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মুসলিম নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে ১৩ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার আদেশ বাতিল করেন জো বাইডেন। হোয়াইট হাউজ থেকে এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের মাধ্যমে ট্রাম্পের ওই আদেশ বাতিল করলেন তিনি।


প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এই সিদ্ধান্তের ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন যে একাধিপত্যবাদী নীতি অনুসরণ করছিল তা থেকে বাইডেন প্রশাসন বেরিয়ে আসবে।


হোয়াইট হাউজের নতুন প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি এ বিষয়ে জানান, ‘প্রেসিডেন্ট মুসলিম নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছেন- যে নীতির ভিত্তি ছিল ধর্মীয় বিদ্বেষ ও বর্ণবাদী আচরণ।’


এদিকে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইমাম-ওলামাগণ। এফএম-৭৮৬কে দেয়া ভিন্ন ভিন্ন সাক্ষাতকারে তারা তাদের অভিব্যক্তি তুলে ধরেন।


এ সময় ইউনাইটেড ইমাম এন্ড উলামা কাউন্সিল’র সভাপতি মাওলানা রফিক আহমদ রেফাহী বলেন, ‘আমরা বাইডেন প্রশাসনের কাছে এমনটিই আশা করেছিলাম। তিনি আমাদের আশাহত করেননি। এতে শুধু মুসলিম সম্প্রদায় নয়; পৃথিবীর সব সচেতন নাগরিকই খুশি। প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে আমাদের ইউনাইটেড ইমাম এন্ড উলামা কাউন্সিল’র পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানায়।’


ফ্লোরিডার মসজিদুল মু’মিনীনের খতিব, ইমাম আবদুল হাকিম আজাদী বলেন, ‘সাংবিধানিকভাবে আমেরিকার দৃষ্টিভঙ্গি হলো এখানে ধর্মীয় কোনো বৈষম্য থাকবে না। বাধার শিকার হবে না কোনো সম্প্রদায়। আমি বলবো অপ্রত্যাশিতভাবে এ বিষয়টি আমেরিকায় গৃহিত হয়েছিল; যার পক্ষে এদেশের কেউ ছিল না। বিবেকের প্রয়োজনে ট্রাম্পের এ ‘ মুসলিম নিষেধাজ্ঞা’ তুলে নেয়ায় আমরা প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ধন্যবাদ জানাই।’


আন-নূর কালচারাল সেন্টারের প্রিন্সিপাল মুফতি মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘বাইডেন প্রশাসনকে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় সাধুবাদ। এর পাশাপাশি আমি বলবো, আমাদের অনেকেই ভোট প্রদানে অনাগ্রহী। তাদের বলবো, আজ কিন্তু মুসলিমদের ওপর থেকে এ নিষেধাজ্ঞা উঠে গেল ভোটের মাধ্যমে বাইডেন ক্ষমতায় আসার কারণেই। তাই গণতন্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্ক না তুলে আমরা যেখানে আছি; সেখানে যদি আমাদের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করি তাহলে এভাবেই আমাদের অধিকার আদায় সম্ভব।’


ফ্লোডিরার আত-তাওহিদ মসজিদের খতিব, ইমাম মুফতি ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এ নিষেধাজ্ঞা আমেরিকায় বসবাসরত মুসলামানদের জন্য একটি অপমানের বিষয় ছিল। আমি একজন মুসলিম হিসেবে আপাত দৃষ্টিতে এ সিদ্ধান্তকে পজেটিভভাবেই দেখছি। আশাকরি সামনে এর সুফল পাবো। ভালকিছু বয়ে আনবে এ সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি বাইডেন প্রশাসন মুসলিম দেশগুলোর দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিবে বলে আশা করছি।’


ইয়র্ক বাংলার সম্পাদক মাওলানা আহমেদ রশিদ বলেন, ‘তিনটি কারণে বাইডেন প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে হয়। এক, এদেশের ম্যাজর পিপল ‘মুসলিম নিষেধাজ্ঞা’র বিষয়টি ভালভাবে নিচ্ছিল না। তাই জনগণের কাছাকাছি যেতে এ সিদ্ধান্ত নেয় হয়েছে। দুই, বাইডেন প্রশাসন চাচ্ছে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ভাল একটি পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তুলবেন। সে লক্ষকে সামনে রেখে এ সিদ্ধান্ত। তিন, পলিটিক্যাল বিভিন্ন বিষয় এখানে লুকায়িত। সবকিছুর পরেও আশা করছি আমরা এ সিদ্ধান্তের ফলে ভালকিছু পাবো।’


ইউনাইটেড ইমাম এন্ড উলামা কাউন্সিল’র সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হামিদুর রহমান আশরাফ বলেন, ‘এ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল ইসলামোফোরিয়া থেকে। বাইডেন নির্বাচনী ওয়াদায় বলেছিলেন এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিবেন। তিনি তার ওয়াদা রক্ষা করেছেন; এজন্য তাকে সাধুবাদ জানাই। আশাকরি বাইডেন প্রশাসন ধীরে ধীরে ইসলামের বাস্তব সৌন্দর্যতা বুঝতে পারবে।’


প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ওই নির্বাহী আদেশ জারি করেন। ইরান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া, সোমালিয়া ও সুদান- এই সাত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার আদেশের কারণে ওই সময় এই আদেশ ‘মুসলিম নিষেধাজ্ঞা’ নামে পরিচিতি পায়।


পরে নাইজেরিয়া, ইরিত্রিয়া, তানজানিয়া, কিরগিজস্তান, মিয়ানমার ও উত্তর কোরিয়া- এই ছয়টি রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকেও ওই আদেশের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।


নিষেধাজ্ঞার ওই আদেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মার্কিন আদালতে অভিযোগ আনা হয়। ২০১৮ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ওই আদেশের পক্ষে রায় দেন।

আপনার মতামত লিখুন :