• 41

‘সবাইকে করোনার ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত’

‘সবাইকে করোনার ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত’

জনপ্রিয় কমিউনিটি নিউজ নেটওয়ার্ক এফএম-৭৮৬ এর সাপ্তাহিক নতুন আয়োজন ‘মাই ডক্টর’। প্রথম পর্বে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্ট জোন্স কুইন্স হাসপাতালের এক্স চিফ অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ডা. চৌধুরি হাসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন আরজে আরিয়ান। 


চিকিৎসা পেশায় আসার শুরুর গল্পটা জানতে চাই।

আমি ডাক্তারি পড়ার আগে ফার্মাসিস্ট ছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর ১৯৭৪ সালে আমেরিকায় চলে আসি। তারপর থেকে এখানেই আছি। যখন প্রথম ফার্মেসি খুলেছিলাম তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ২৪ বছর।


করোনা কাটিয়ে আমরা কি আবার আগের জীবনে ফিরতে পারব?

আমি আশা করছি পারবো। তবে অনেক ভাইরাসই থেকে যায়, পুরোপুরি নির্মূল হয়না। যেহেতু এই ভাইরাস পরিবর্তনশীল, তাই সামনে হয়তো অতটা ক্ষতি নাও করতে পারে। ভ্যাকসিন যেহেতু এসে গেছে, তাই এটা নিয়ন্ত্রণ কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। তারপর কোনো এক সময় হয়তো আমরা করোনামুক্ত পৃথিবী পেয়ে যাবো। 


সবার কি এই ভ্যাকসিন নেয়া উচিত?

অবশ্যই। কারণ আপনি যদি এই ভ্যাকসিন না নেন, তাহলে কিন্তু আপনি ভাইরাসটির ক্যারিয়ার হয়ে থাকছেন। তাই এটা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। আমিও কোভিড ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছি ডিসেম্বরের ১৭ তারিখ। ২য় ডোজ নিয়েছি জানুয়ারির ৬ তারিখ।


এই করোনাকালে গ্রোসারি থেকে সবজি কিংবা অন্যান্য জিনিশ এনে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করে খাওয়া উচিত?

বাসায় এসে পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিলেই হবে। আর অবশ্যই নিজে বাইরে থেকে এসে সাবান দিয়ে খুব ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে। মাস্ক ব্যবহার তো অবশ্যই করতে হবে।


খবরে বেরিয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি বছরে তিন হাজার কোটি টাকার গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাচ্ছে মানুষ। এই ব্যাপারে কী বলবেন?

এটা অবাক হওয়ার কিছু নয়। যদি বছরে এই তিন হাজার কোটি টাকা খরচ না করা হয়, তবে গ্যাস্ট্রিক থেকে যেসব রোগের সৃষ্টি হবে, সেগুলো সারাতে ৩০ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। তাতেও কাজ হবে বলে মনে হয় না।


গ্যাস্ট্রিকের কারণ ও উপসর্গগুলো কি কি?

আমাদের স্টোমাক একটা বেলুনের মত। বেলুন যদি আপনি ফুলিয়ে দেন তাহলে সেখানে চাপ পড়বে। বমির ভাব হতে পারে। পেট ফুলে যেতে পারে। পেট ভরা ভরা লাগতে পারে।


এর জন্য অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন বা অনিয়মিত খাবার গ্রহণ কতটা দায়ী?

এটা তো অবশ্যই দায়ী। তবে শুধু অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন বা অনিয়মিত খাবার গ্রহণই নয়, গ্যাস্ট্রিকজনিত অসুখের জন্য এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া দায়ী। যার নাম ‘ক্যান্টেলা’। এটা সাধারণত পানি থেকে আসে। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের শতকরা ৯০ শতাংশ মানুষের মাঝে এই ব্যাকটেরিয়া আছে। আমাদের পরিপাকতন্ত্রে এই ব্যাকটেরিয়া থাকার ফলেই গ্যাসের সৃষ্টি হয়। এই ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশনে অনেক ক্ষেত্রে স্টোমাক আলসার হয়, সেখান থেকে স্টোমাক ক্যানসার হয়।


অল্পবয়সী কেউ গ্যাস্ট্রিক আক্রান্ত হলে করণীয় কি?

প্রথম স্টেজে এন্টাসিড দেওয়া যেতে পারে। এতেও কাজ না হলে হিস্টামিন বøকার দেওয়া যায়। এটার সাসপেনশনও পাওয়া যায়। ডোজ এ্যাডজাস্ট করে দেয়া যায়।


চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কি ওষুধ গ্রহণ যৌক্তিক?

প্রশ্নই আসে না। এটা একদমই উচিত নয়। অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ওষুধ গ্রহণ করা উচিত।


যতদূর জানি, চিকিৎসক হয়েও আপনি কবিতাপ্রেমী...

হ্যাঁ। কবিতা আমার খুবই পছন্দের। সময় পেলেই লেখার চেষ্টা করি। আবৃত্তি করি। জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে একটা কবিতাও লিখেছি। তার কয়েকটা লাইন এমন-

জীবনানন্দ দাশ, তুমি এসেছিলে কবিতার ডালি নিয়ে।

এসেছিলে বাংলার মানুষের হৃদয়ে স্বপ্ন নিয়ে।

হয়তোবা অনেক কথা ছিলো অপূর্ণ...

আপনার মতামত লিখুন :