• 117

জীবন ঘনিষ্ট চার বিষয়ের শরঈ সমাধান

জীবন ঘনিষ্ট চার বিষয়ের শরঈ সমাধান

এফএম-৭৮৬ ও এনটিভির যৌথ আয়োজিত অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’য় উঠে আসে চারটি জীবন ঘনিষ্ঠ বিষয়ের শরঈ সমাধান। এফএম-৭৮৬ এর সম্পাদক মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর সঞ্চালনায় প্রচারিত এ অনুষ্ঠানে শরীয়তের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রদান করেন মসজিদে আবু হুরায়রা নিউইয়র্ক-এর ইমাম মুফতি হাফিয মোহাম্মদ ফায়েকুদ্দীন।

প্রশ্ন- কোভিড-৯০ এর ভ্যাকসিন যা আমরা ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেখছি এনিয়ে একটি প্রশ্ন উঠে আসছে যে, এ ভ্যাকসিন এর মধ্যে কোন জেলেটিন বা এমন কোনো উপাদান আছে কিনা যা শরীয়ত সমর্থন করে না? যদি এমন কিছু থাকে, তাহলে সে ভ্যাকসিন নেওয়া যাবে কিনা? ইসলাম এ বিষয়ে কী বলে?

উত্তর- ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্ম। মানুষ ও মানুষের জীবন ঘনিষ্ট বিভিন্ন বিষয়াদির সুন্দর সমাধান রয়েছে এ জীবন বিধানে। এ জীবন বিধান মানুষের জীবনকে সুন্দর ও সাবলীল করার জন্য। তাইতো ইসলামের বিভিন্ন ফরজ বিধি-বিধান যখন কোন অসুস্থ ব্যক্তি সঠিকভাবে পালন করতে না পারে, তখন তার জন্য ভিন্ন একটি পদ্ধতি বলে দেয়া হয়। অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে বাড়তি কোনো জোরাজোরি করা হয় না।

এখন যদি আমি কোভিড-৯০ এর ভ্যাকসিনের কথায় আসি, করোনা মহামারীর কারণে পৃথিবী এমন এক পর্যায়ে চলে গেছে যে, মানুষ এ ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য হাহাকার করছে। জীবনের নিভু নিভু আলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাচ্ছে। এটা জীবনের কোন বিনোদনের বিষয়ের মত নয়; যে আনন্দ বিনোদনের জন্য এটা গ্রহণ করা হচ্ছে। এখানে বাঁচা-মরার প্রশ্ন। আর জীবন রক্ষা করা ইসলামে ফরজ করা হয়েছে। তাই জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন ব্যবহারের একটি ভিন্ন বিষয়। শরীয়তের একটি স্বতঃসিদ্ধ উসুল আছে, ‘প্রয়োজন কখনো কখনো নিষিদ্ধ কোন কিছুকে সাময়িক সময়ের জন্য বৈধতা প্রদান করে।’ তাই এই উসুলের ভিত্তিতে ভ্যাকসিন ব্যবহারে ইসলামের কোন বাধা নেই। যদিও এতে হারাম কিছু থাকে।

প্রশ্ন- বরফ বা বরফ গলিত পানি দিয়ে ওযু করা যাবে কি?

উত্তর- বরফ বা বরফ গলিত পানি তো পানি থেকেই তৈরি। তাপমাত্রার নিম্নতার কারণে তা এ আকারে পরিণত হয়েছে। তাই বরফ কিংবা বরফ গলিত পানি দিয়ে অজু করলে কোন সমস্যা নেই। তবে এ বরফ নাপাক কোন কিছুর জমাট হতে পারবে না। নাপাক কোন কিছু থাকলে তা দিয়ে ওযু হবে না।

প্রশ্ন- তাপমাত্রা যখন একেবারে কমে আসে তখন রাস্তাঘাটে বিভিন্ন সময়ে বরফ জমাট বেঁধে থাকে। এর কারণে কখনো কখনো স্বাভাবিক চলাফেরা করা যায় না। তখন কি মসজিদে জামাত বন্ধ রাখা যাবে? বা কয়েক ওয়াক্ত নামাজ একসঙ্গে আদায় করা যাবে?

উত্তর- একাধিক ওয়াক্তের নামাজ একসঙ্গে আদায় করার যে বিষয়টি আছে এটাকে ইসলাম ‘জমা বাইনাস সলাতাইন’ বলে। অর্থাৎ দুই ওয়াক্ত নামাজকে একই সময়ে আদায় করা। ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মাযহাব অনুযায়ী খারাপ ওয়েদারের কারনে দুই ওয়াক্ত নামাজকে একত্রে পড়া জায়েজ নেই। তবে শাফী মাযহাবের মধ্যে এই সুযোগটি রয়েছে যে, যখন ওয়েদার খারাপ হয়; তখন দুই ওয়াক্ত নামাজকে একসঙ্গে পড়া জায়েজ আছে। অর্থাৎ যোহর ও আসরকে একসঙ্গে পড়া। মাগরিব ও এশাকে একসঙ্গে পড়া।

তবে হানাফী মাযহাবে একটা সুযোগ আছে সেটা হল ‘জমায়ে সুরী’। এটি হলো, যোহরকে তার একেবারে শেষ ওয়াক্তে পড়া এবং আসরকে তার একেবারে শুরু ওয়াক্তে পড়া। মাগরিবকে তার একেবারে শুরুর ওয়াক্তে পড়া এবং এশাকে তার একেবারে শেষ ওয়াক্তে পড়া। খারাপ ওয়েদারে এ সুযোগটি কাজে লাগানো যেতে পারে।

প্রসঙ্গত একটি কথা আসে, বর্তমান কোভিড-90 এর যে পরিস্থিতি চলছে; এ অবস্থায় যদি এমন হয় যে, মসজিদে গেলে ভাইরাসটি সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাহলে ঘরে নামাজ পড়াই সবচেয়ে উত্তম হবে। যেন একজনের কারণে আরেকজনের জীবন সংঙ্কায় না পড়ে।

প্রশ্ন- নিম্ন তাপমাত্রায় শরীরকে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখার জন্য অ্যালকোহল, ধূমপান, হুক্কা বা এ জাতীয় কিছু গ্রহণ করা যাবে কিনা?

উত্তর- যদি এমন হয় যে, অতি নিম্ন তাপমাত্রায় নিজের শরীরের তাপমাত্রাকে স্বাভাবিক রাখার জন্য অ্যালকোহল ছাড়া অন্য কোন পদ্ধতি আপনার কাছে নেই। এবং যদি শরীরের তাপমাত্রাকে স্বাভাবিক না করেন তাহলে আপনি মারা যাবেন। এক্ষেত্রে অ্যালকোহল গ্রহণকে সাময়িকভাবে শরীয়ত বৈধতা দেয়।

কিন্তু আমেরিকার মতো জায়গায়; যেখানে নিজের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার জন্য যথেষ্ট পরিমান ব্যবস্থা রয়েছে। শপিংমলে পর্যাপ্ত পরিমান গরম কাপড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। বাসস্থান ও গাড়িতে হিটিং এর ব্যবস্থা রয়েছে। এমন দেশে অ্যালকোহল গ্রহণ করে নিজের শরীরের তাপমাত্রাকে স্বাভাবিক রাখার কথা বলাটা হলো একটি অবৈধ কাজকে বৈধতা করে নেয়ার কুটকৌশল মাত্র। শরীয়ত এই পরিস্থিতিতে অ্যালকোহল পানকে বৈধ দেয় না।

আপনার মতামত লিখুন :