• 287

সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাবে ফোবানার নতুন কমিটি

সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাবে ফোবানার নতুন কমিটি

শেষ হলো ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা তথা ফোবানার ৩৪তম কনভেনশন। সেই সাথে ঘোষণা করা হলো ২০২০-২১ সালের কার্যনির্বাহী কমিটি। এতে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন জাকারিয়া চৌধুরী এবং সেক্রেটারি হয়েছেন মাসুদ রব চৌধুরী। জয়ী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো তারা মুখোমুখি হয়েছেন এফএম ৭৮৬-এর। সঙ্গে ছিলেন আরজে মোহনা- 


আরজে মোহনা: প্রথমেই জয়ের অনুভ‚তি জানতে চাই।

জাকারিয়া চৌধুরী: ভীষণ ভালো লাগছে। ভালো লাগার এই অসাধারণ মুহূর্তে ধন্যবাদ জানাতে চাই সব মিডিয়াকে, যারা আমাদেরকে সাপোর্ট করেছেন। বিশেষ ধন্যবাদ এফএম ৭৮৬-কে। কারণ আপনারা পুরো কনভেনশন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিলেন। গত দুদিন অনেক পরিশ্রম করেছেন। তাই আপনাদের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা।


মাসুদ রব চৌধুরী: জয়ী হলে কার না ভালো লাগে! সেটা যদি হয় ফোবানার মতো প্ল্যাটফর্ম, তাহলে তো কথাই নেই। অনুভ‚তি খুব ভালো। এটা শুধু জয়ী হওয়ার কারণে নয়, দারুণ একটা কনভেনশন শেষ হয়েছে, সেজন্যও। ভার্চুয়াল হওয়ায় বিষয়টা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিলো। আশাকরি সেই চ্যালেঞ্জ আমরা উতরাতে পেরেছি।


পুরো কনভেনশন কেমন হয়েছে? 

জাকারিয়া চৌধুরী: এক কথায় অসাধারণ। আমি মনে করি, ফোবানার ইতিহাসে এটাই সেরা কনভেনশন। প্রায় ৬০-৭০ হাজার দর্শক আমাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অনকে সাধারণ মানুষ ফোবানা সম্পর্কে জানতো না। ভার্চুয়াল মাধ্যমে হওয়াতে তারা বিষয়টা সম্পর্কে জানতে পেরেছে। তাই আমি বলবো, আমরা শতভাগ সফল। এটা একটা ঐতিহাসিক কনভেনশন।


এ নিয়ে আপনার কোনো অতৃপ্তি নেই?

জাকারিয়া চৌধুরী: আসলে অতৃপ্ত হওয়ার মতো কোনো কিছু চোখে পড়েনি। সাধারণত ফিজিক্যাল কনভেনশন নিয়ে মানুষের অনেক অভিযোগ থাকে। হয়তো আসন সঙ্কট থাকে, ব্যবস্থাপনা নিয়ে থাকে নানা ত্রুটি। কিন্তু এবার আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি বরং সবাই মুগ্ধ হয়ে বিভিন্ন সংগঠনের পারফরম্যান্স দেখেছে। এজন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের টেকনিক্যাল টিমকে। তারা অনেক অনেক পরিশ্রম করেছে।


ভোটের প্রক্রিয়াটা কেমন ছিলো?

মাসুদ রব চৌধুরী: আগের যে নির্বাচনগুলো হয়েছে সেগুলো ছিলো ম্যানুয়াল পদ্ধতি। সারাদিন ধরে আমাদের এজিএম (অ্যানুয়াল জেনারেল মিটিং) হতো। সবার সঙ্গে সবার দেখা হতো, কথা-বার্তা হতো। তারপর শুরু হতো ভোটিং প্রসেস। তার সবগুলোই এবার হয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। বলতে গেলে এটা ম্যানুয়ালের চেয়ে আরো ভালো। নির্বাচন কমিশন আমাদেরকে নমিনেশন সাবমিট করতে বললেন। আমরা সেটা করলাম, স্ক্রীনে সবাই সবারটা দেখলো। এমনকি প্রত্যেক ক্যান্ডিডেটের একটা করে সিভি স্ক্রীনে দেখানো হলো। এতে করে ভোটাররা আমাদের ব্যাপারে জেনে নিতে পেরেছেন, যা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সম্ভব ছিলো না।


এমন সুন্দর নির্বাচনের পেছনে কারা ছিলেন?

মাসুদ রব চৌধুরী: ভার্চুয়াল মাধ্যমে এমন ভেরি ওয়েল ডেমোক্র্যাটিক প্রোসেস সম্পন্ন করার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের চিফ ইলেকশন কমিশনার এবং ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুব রহিমকে। অনলাইনেও যে এত সুন্দরভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা যায়, সেটা তিনি প্রমাণ করেছেন। উনার সাথে চৌকশ একটা টিম ছিলো। এছাড়া নির্বাচন কমিশনে আরো দুজন সদস্য হিসেবে ছিলেন ড. জিনাত নবী এবং রবিউল করিম বেলাল। তাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।


ফোবানার নতুন চেয়ারপারসন জাকারিয়া চৌধুরী, সেক্রেটারি মাসুদ রব চৌধুরী


ভার্চুয়াল মাধ্যমে নির্বাচনের সবচেয়ে ভালো বিষয় কোনটি?

মাসুদ রব চৌধুরী: আমরা ক্যান্ডিডেটরা দীর্ঘ সময় ধরে জুমের মাধ্যমে লগইন করে ছিলাম। সবার সাথে কথা হচ্ছে, হাসি-ঠাট্টা হচ্ছে। ওদিকে ভোট প্রক্রিয়াও চলছে। ম্যানুয়াল মাধ্যমে সবাইকে একই সময়ে ও একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব নয়। রেজাল্ট হওয়ার পরও আমরা কথা বলে যাচ্ছি, শুভেচ্ছা বিনিময় হচ্ছে। কেউ কাউকে চাইলেও এড়াতে পারছে না। কী দারুণ ইন্টারঅ্যাকশন। আমি তো বলবো, দুর্দান্ত একটা নির্বাচন হয়েছে।


কনভেনশন সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই।

মাসুদ রব চৌধুরী: এটা বলতে দ্বিধা নেই যে, ভার্চুয়াল মাধ্যম সম্পর্কে আমাদের অনেকের জ্ঞানই খুব কম। তাই ভয়ে ছিলাম, ঠিকঠাকভাবে পুরো বিষয়টা সম্পন্ন হবে তো? তবে যখন শুরু করলাম, আস্তে আস্তে বিষয়গুলো জানতে পারলাম। সবাই আমার ল্যাপটপের স্ক্রীনে কথা বলছে। আমার মনে হচ্ছিল, আশপাশে বসে কথা বলছে তারা। যখন লিঙ্কটা শেয়ার করলাম, বন্ধুরা বা আত্মীয়-স্বজন নিচে এসে কমেন্ট করতে লাগলো, ইটস অসাম। আমি যেহেতু আয়োজকদের একজন তাই আমি বললে হয়তো পক্ষপাত হয়ে যাবে। কিন্তু যখন দেখলাম, সবাই প্রশংসা করছে, তখন বুঝলাম কনভেনশন দারুণ হয়েছে।


ফোবানাকে আপনারা কোথায় নিয়ে যেতে চান? 

জাকারিয়া চৌধুরী: অনেকে পদ নিয়ে নিজেকে আলোকিত করে। কিন্তু আমি পদটাকেই আলোকিত করতে চাই। ফোবানাকে একটি মানবিক সংগঠন হিসেবে দাঁড় করাতে চাই। প্যান্ডেমিক পরিস্থিতিতে আমরা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি সেটা শুধু অব্যাহত হয়, আরও বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবো। প্রবাসী বাংলাদেশিদের যেকোনো সঙ্কটে পাশে দাঁড়াতে চাই। আশা করছি, ফোবানার সেবা পৌঁছে যাবে সবার কাছে।


মাসুদ রব চৌধুরী: যারা পরাজিত হয়েছেন তারা আমাদের সঙ্গেই থাকবেন। প্রত্যেকটা মানুষের আলাদা আলাদা অভিজ্ঞতা আছে। সেটা কাজে লাগিয়ে আমরা ফোবানাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। সবাই একসাথে কাজ না করলে এই সংগঠনের স্বার্থকতা আসবে না। আমরা যারা জয়ী হয়েছি তারা শুধু একটা টাইটেল পেয়েছি তা কিন্তু নয়, আমরা যদি ফোবানা ফ্যামিলিকে ভালো কিছু না দিতে পারে, তাহলে এতসব আয়োজন ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমি মনে করি, এটা একটা টিম ওয়ার্ক।


নতুন কমিটি কোন বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেবে?

মাসুদ রব চৌধুরী: কমিউনিটিতে ফোবানার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে চাই। যেন সবাই এই সংগঠনকে একটা আশ্রয়ের জায়গা মনে করে। কমিউনিটি যেন আমাদেরকে ভালোবাসে, সেই চেষ্টাটাই করে যাবো। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ দেশের মেইনস্ট্রিমে ফোবানার একটা ভালো অবস্থান গড়তে চাই। তারা অনেকেই আমাদেরকে চেনে-জানে এবং বিভিন্নভাবে আমাদের সাথে যুক্ত থাকে। এটার পরিধি আরো বাড়াতে চাই। তাদের কাছে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা না থাকলে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো না।


ফোবানা আপনাকে কি দিয়েছে?

জাকারিয়া চৌধুরী: ২০১৩ সাল থেকে আমি ফোবানার সঙ্গে আছি। তার আগে বলতে গেলে একজন বিচ্ছিন্ন মানুষ ছিলাম। তেমন কারো সঙ্গে পরিচয় ছিলো না। অথচ এখন আমি সবাইকে চিনি আবার আমাকেও আশাকরি সবাই চেনে। এই যে একটা অসাধারণ সম্পর্ক, ফোবানা না থাকলে এটা কোনোভাবেই অর্জন করতে পারতাম না। তাই ফোবানার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।


বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলো নিয়ে ফোবানার কী পরিকল্পনা?

মাসুদ রব চৌধুরী: নির্বাচনের পর এই প্রথম আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি। এখনো এক্সিকিউটিভ কমিটির শপথ হয়নি। শপথ হওয়ার পর আলোচনায় বসে আমরা কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করবো। সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলো নিয়েও পরিকল্পনা থাকবে। আমাদের ছেলেমেয়েরা, যারা এই দেশে জন্মগ্রহণ করেছে, তারা যাতে মাতৃভ‚মি বাংলাদেশ সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারে, তেমন কিছু প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া হবে।


নিউ ইমেগ্রেন্টদের নিয়ে কী করবেন আপনারা?

জাকারিয়া চৌধুরী: সাধারণত এক্সিকিউটিভ কমিটি রুটিন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তবে ফোবানার আন্ডারে অনেকগুলো স্ট্যান্ডিং কমিটি রয়েছে। তাদের কেউ এমন কোনো উদ্যোগ নিলে আমরা পাশে থাকবো। এছাড়া ভবিষ্যতে এ নিয়ে একটা সাব-কমিটি করার চিন্তাভাবনা আছে। যাতে কোনো প্রবাসী সমস্যায় পড়লে ওই কমিটির মাধ্যমে আমাদের কাছে আসে।  

 

এফএম ৭৮৬-এর দর্শকদের উদ্দেশে যদি কিছু বলতে চান।

জাকারিয়া চৌধুরী: এফএম ৭৮৬-এর সকল দর্শক-শ্রোতাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। সেই সাথে ধন্যবাদ জানাতে চাই এই ডিজিটাল রেডিওর দায়িত্বশীলদেরকে। আশাকরি, সামনের দিনগুলোতেও আপনারা আমাদের সাথে থাকবেন।

আপনার মতামত লিখুন :