• 73

‘আমাদের শেকড়ের সাথে প্রজন্মের মেলবন্ধন জরুরি’

‘আমাদের শেকড়ের সাথে প্রজন্মের মেলবন্ধন জরুরি’

নিউইয়র্ক এর জনপ্রিয় কমিউনিটি নিউজ নেটওয়ার্ক এফএম-৭৮৬ এর নিয়মিত আয়োজন ‘নিউইয়র্ক ডায়েরি’তে অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন প্রিয়ন্তী এডিট এন্ড ইফেকটস-এর সিইও মনোয়ার হোসেন পাঠান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন আরজে আরিয়ান


কেমন কাটলো আপনার এবারের মাতৃভাষা দিবস?

এবাবের অনুভূতি ভিন্ন। প্রতি বছর এই সময়টাতে যখন বাংলাদেশে থাকি তখন যে আমেজ পাই সেই আমেজ তো আর এখানে পাওয়া সম্ভব না। কয়েকটা বাংলা টিভি চ্যানেল এ চোখ রাখছিলাম। তাদের বিভিন্ন আয়োজন দেখে সময় কাটিয়েছি।


আপনার জন্ম, বেড়ে ওঠা আর পড়াশোনা নিয়ে যদি একটু বলতেন।

আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা কুমিল্লার দেবিদ্বারের পাঠান বাড়িতে। আমরা তিন ভাই ও চার বোন। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই ১৯৮১ সালে। সেখান থেকে আমি অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করি। তারপর তিন বন্ধু মিলে প্রথম এ্যাড ফার্ম শুরু করি ঢাকার মতিঝিলে। সেটার নাম ছিল ‘এ্যাডভেন্ট এন্টারপ্রাইজ’। আমার আসলে সেখান থেকেই শুরু।


আপনার পরিবার সম্পর্কে জানতে চাই।

আমার স্ত্রী লিপি মনোয়ার। তিনি বাংলাদেশ লেখিকা সংঘের সাধারন সম্পাদিকা। তিনি সিরিজ নাটকসহ ত্রিশটিরও বেশি নাটক লিখেছেন। বইয়ের সংখ্যাও এরকমই হবে। আমার মেয়ে প্রিয়ন্তী একজন আর্কিটেক্ট। আমার ছেলে প্রমিত নিউইয়র্কের একটা ভার্সিটিতে পড়াশোনা করছে। পরিবারের সবাই আসলে সংস্কৃতিমনা। আর আমার মিডিয়ার সাথে যুক্ততার ব্যাপারটাও পরিবারের সবাই খুব সাপোর্ট দেয় আর আমিও আমার কাজের এই জায়গাটাতে স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করি।


মিডিয়াতে আসা কি হুট করেই, নাকি পরিকল্পনা ছিল?

হুট করেই আসা। তিন বন্ধুর কিছু একটা করতে হবে, এটা ভেবেই আসা। আমরা প্রথমে ভিজুয়াল লাইনে কাজ করতাম না, শুধু প্রিন্ট মিডিয়াতে কাজ করতাম। পরবর্তীতে দুই বন্ধুর একজন গার্মেন্টস সেক্টরে চলে যায় আর আরেকজন শিক্ষাক্ষেত্রের দিকে ধাবিত হয়। দুজনই এখন স্ব -স্ব জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। তবে আমি মিডিয়াটা ছাড়তে পারিনি। ২০০০ সালের দিকে মেয়ে প্রিয়ন্তীর নামে শুরু করি ‘প্রিয়ন্তী এডিট এন্ড ইফেক্টস’।


আপনি তিন হাজারেরও বেশি নাটকে প্রযোজক ছিলেন। আগেকার নাটকে বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষামূলক বিষয়ও থাকতো। কিন্তু বর্তমান শিক্ষামূলক বিষয় খুব একটা পাওয়া যায় না...

সময়ের পরিবর্তনে মানুষের রুচিও বদলায়। এখন যে ভালো নাটক হচ্ছে না সেটা না। তবে আনুপাতিক হারে সেই সংখ্যা কম, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। এখন নাটক করতে গেলে মাথায় রাখতে হয় প্রতিটি মুহুর্তে কিভাবে দর্শক ধরে রাখা যায়। সেই ভাবনার জন্যই হয়তো অনেক ক্ষেত্রে অনেক কিছু চাইলেও করা সম্ভব না।


নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য আমরা কোনো নাটক পেতে পারি কি?

এখানে আসলে নাটকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো টেকনিক্যাল সাপোর্ট পাওয়া সম্ভব না। যদিও ইতোপুর্বে আমার স্ত্রীর লেখা ‘বোধোদয়’ নাটক এখানে করেছিলাম। টনি ডায়েস অভিনয় করেছিলেন। সবকিছু মিলিয়ে এখানে আসলে নাটক তৈরির সেই এনভায়রনমেন্টটা ক্রিয়েট করা কঠিন। তবুও আমার পরিকল্পনাতে আছে। যখন স্থায়ীভাবে আমি নিউইয়র্কে চলে আসবো তখন একটা বাংলা টিভি চ্যানেল চালুসহ নাটক নিয়ে এখানে কাজ করার ইচ্ছে আছে।


আগেকার সময়ের নাটক আর এই সময়ের নাটকের মাঝে মৌলিক কি পার্থক্য দেখেন?

আমার কাছে যেটা মনে হয় সেই সময়ে প্রতিটি নাটকে বিনোদন তো থাকতোই এর পাশাপাশি অবশ্যই শিক্ষামূলক বিষয় তুলে ধরা হতো। কিন্তু এই সময়ের বেশিরভাগ নাটকে শুধু বিনোদনকেই প্রাধান্য দেয়া হয়।


একটা সময় নাটকের প্রচার মাধ্যম ছিলো কেবলই টেলিভিশন, কিন্তু বর্তমানে দেখা যায় ইউটিউব...। এটাকে কিভাবে দেখছেন?

আপনার সাথে একমত। এখন অধিকাংশ নাটকই কিন্তু ইউটিউব ভিত্তিক হচ্ছে। এটা অবশ্যই ইতিবাচক দিক এবং ব্যবসায়িক প্রসার তো অবশ্যই।


এখনকার নাটকে অনেক চরিত্রই বিলীন হয়ে যাচ্ছে...

মা, ভাই, বোন, কাজের মেয়ে- এই চরিত্রগুলো গল্পের পরিপূর্ণতার জন্য রাখা হতো। কিন্তু বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই এটা সম্ভব না। কারন বাজেটের একটা বিরাট অংশ লিড রোলেই চলে যায়। আমরা প্রযোজকরাই এজন্য ডিরেক্টরদের বলে দিই কম লোকেশন, কম আর্টিস্ট নিয়ে কাজ করতে। টেলিভিশন চ্যানেল থেকে আরো বাজেট বাড়ানো উচিত বলে আমার মনে হয়।


প্রবাসে সেকেন্ড জেনারেশনের মাঝে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে কী করণীয়?

এই দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে। বিশেষ করে বাব-মা’র। আমাদের দেশ, ভাষা, সংস্কৃতি তুলে ধরে আমাদের শেকড়ের সাথে এই প্রজন্মের মেলবন্ধন বাঁচিয়ে রাখাটা বাঙালি হিসেবে আমাদের গুরুদায়িত্ব।

আপনার মতামত লিখুন :