• 131

জর্জিয়ার এই ইলেকশন প্রেসিডেন্সিয়ালের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ

জর্জিয়ার এই ইলেকশন প্রেসিডেন্সিয়ালের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ

জর্জিয়ার সিনেটর রান অফ ইলেকশনকে সামনে রেখে এফএম-৭৮৬ এর নিয়মিত আয়োজন নিউইয়র্ক ডায়েরির বিশেষ পর্বে যুক্ত হয়েছেন মেইনস্ট্রিম রাজনীতি এবং কমিউনিটির সাথে সংযুক্ত ৪ জন। তারা হলেন- অ্যাসালের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ জামাল, ডেমোক্র্যাট লিডার জব্বার মোহন, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট সাইয়েদ এম আলম ও জর্জিয়ার রান কংগ্রেস ড. রশিদ মালিক। তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন আরজে মোহনা


‘রান অফ ইলেকশন’ আসলে কী? 

সাইয়েদ এম আলম: প্রেসিডেনশিয়াল ইলেকশনে যখন কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের কম ভোট পায় তখন আবার নতুন করে ইলেকশন করতে হয়, এই ব্যাপারটাই হচ্ছে ‘রান অফ ইলেকশন’। নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জর্জিয়ায় বাইডেন পেয়েছেন ৪৯.৫ শতাংশ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ৪৯.৩ শতাংশ ভোট। সেক্ষেত্রে এখন এই সিনেটর ইলেকশনটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। 


রান অফ ইলেকশনের বাজেট কত?

সাইয়েদ এম আলম: তুলনামূলক এর বাজেট অনেক। এই মহামারির সময়ও রান অফ ইলেকশনের জন্য ৪১৮ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে শুধু বিজ্ঞাপনে। যেখানে আমাদের একটা স্টিমুলাস বিলের দরকার ছিলো অনেক আগেই।  


কেমন নেতৃত্ব চান আপনারা?

ড. রশিদ মালিক: বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে বাংলাদেশ আগামী ৫০ বছর পর সমুদ্রের নিচে তলিয়ে যেতে পারে। এই সঙ্কট সারা বিশ্বের জন্যই। এসব ব্যাপারগুলোর মোকাবেলা করার জন্য আমাদের প্রয়োজন ভালো নেতৃত্ব। আমরা শুধু এখনই জিততে চাচ্ছি না, আগামী ৮ বছর জিততে চাচ্ছি। কারণ, ৪ বছর পরে আবারও একই সমস্যার সম্মুখীন হবো। আমরা নভেম্বরেও জিতেছি, তার আগেও জিতেছি, পরেও জিতবো। আমাদের সংগ্রাম মানুষের জন্য, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং ইমিগ্রেন্টদের জন্য।


এই ইলেকশন কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

সাইয়েদ এম আলম: এই ইলেকশনটা শুধুমাত্র জর্জিয়ার না, গোটা আমেরিকার। পুরো বিশ্ব এই ইলেকশনের দিকে তাকিয়ে আছে। এখানে শুধু জর্জিয়ার লোকেরাই কাজ করছে না। গোটা বিশ্বের মানুষ একযোগে কাজ করছে। যেমন আপনারা নিউইয়র্ক থেকে করছেন, কেউ বাংলাদেশ থেকে, কেউবা অন্য কোনো দেশ থেকে ভার্চুয়লি সংযুক্ত আছেন। বিভিন্ন সংগঠনও কাজ করছে। বিভিন্ন স্টেট থেকে এক হাজারেরও বেশি ভলান্টিয়ার কাজ করছেন। এই দুটি ভোটের ওপরেই কংগ্রেসম্যান হওয়া এবং সিনেটর নির্ধারিত হবে। বাংলাদেশি, সাউথ এশিয়ান, মেক্সিকানসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোটে অংশগ্রহণ করছেন। 


এখন পর্যন্ত কত ভোট গণনা হয়েছে?

জব্বার মোহন: জর্জিয়ায় এই ইলেকশনটা প্রেসিডেনশিয়াল ইলেকশনের চেয়েও টান টান উত্তেজনা তৈরি করছে সবার কাছে। পোস্টাল ভোট বা এডভান্স ভোট প্রায় ৪ লক্ষের মতো অলরেডি হয়ে গেছে। বাকি আছে প্র্যাক্টিক্যাল ভোট। তরুণরা এডভান্স ভোটের চেয়ে সরাসরি ভোট দেওয়াটাই বেশি পছন্দ করে। ড. রশিদ মালিক মেইনস্ট্রিম-এ আসার জন্যই আজকে বাঙালিরা এতটা এগিয়ে যেতে পারছে। এবারে কিন্তু বেশ কয়েক জায়গায় বাংলা ভাষায় প্রচারণা করা হয়েছে। আমেরিকাতে প্রেসিডেন্ট একার সিদ্ধান্তে কিছু করতে পারেন না, তাকে সিনেটর এবং কংগ্রেসম্যানকে নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাই এই ভোটের দিকেই আমাদের সবার নজর।


বাংলায় প্রচারণা করা কীভাবে সম্ভব হলো?

ড. রশিদ মালিক: শুরুতেই বলি, নিউইয়র্ক বাঙালিদের প্রাণকেন্দ্র। সেখানে এবারের প্রেসিডেনশিয়াল ইলেকশনে ৬০টি পোলিং সেন্টারে বাংলায় ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিলো। যেহেতু সিনেটর মনোনীতদের মধ্যে বাঙালি আছেন এবং ভোটারদের মধ্যেও অনেকেই বাঙালি আছেন তাই বাংলা ভাষাটা প্রাধান্য পেয়েছে। এখানে ‘ফক্স নিউজ’ আছে, তারা একচেটিয়া প্রপাগাণ্ডা প্রচার করে। কিন্তু আপনারা সত্যি খবর টাই প্রকাশ করেন। 


এখন পর্যন্ত কোন প্রার্থী কতটুকু এগিয়ে আছেন?

সাইয়েদ এম আলম: সিনেটরদের ১০০টি আসন থাকে। এই ১০০টির মধ্যে ৫০টি আসন অলরেডি রিপাবলিকানরা পেয়ে গেছেন। ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছেন ৪৮টি। তাই, জর্জিয়ার এই দুটি আসন যদি ডেমোক্র্যাটরা পেয়ে যায় সেক্ষেত্রে কামালা হ্যারিসের জন্য কংগ্রেসে একটি আসন থাকবে। তাতে ওবামা প্রশাসন যে বিলগুলো পাশ করাতে পারেনি, এই প্রশাসন সহজেই সেগুলো করতে পারবেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সিনেটর জন ওসফ ৪৯% ভোট পেয়ে এবং আরেকজন ডেমোক্র্যাট র‌্যাপহোল অর্নক ৪৯.৩% ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। 

আপনারা জানেন, ৯ লাখ ৬২ হাজার ৮৮৬টি এ্যাবসেন্টি ব্যালট এখন পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং ২ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫৭ আর্লি ভোটিং কাস্ট হয়েছে। এক জরিপে দেখা গেছে, যারা প্রেসিডেনশিয়াল ইলেকশনে ভোট দেননি তারা অনেকেই এই ইলেকশনে ভোট দিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন সেক্রেটারি অব স্টেটকে কল করে ধমকে বলেছেন, যে ১১ হাজার ৭৭৯ ভোটে তিনি হেরেছেন সেসব ভোট তাকে যেভাবেই হোক এনে দিতে হবে। এভাবে বলাটা একটা অপরাধ। 


ডেমোক্র্যাটরা যদি জয়ী হতে না পারেন সেক্ষেত্রে কি হতে পারে?

শেখ জামাল: এই ২টা আসন না পেলে জো বাইডেনকেও ওবামা সরকারের মতো কারাগারে বন্দি থাকার মতোই থাকতে হবে। বারাক ওবামা যেমন কিছু কেয়ার রেখে গেছেন যেগুলো আজও অনেক নিম্নআয়ের মানুষেরা ভোগ করে উপকৃত হচ্ছেন, যেটা ট্রাম্প সরকার বন্ধ করে দেওয়ার অনেক চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সম্ভব হয়নি। শেষের দিকে এসে যেমন তিনি অনেকগুলো বিল পাশ করাতে পারেননি সেগুলো পাশ করাতে জো বাইডেনের পক্ষে কষ্টসাধ্য হবে।


তাহলে তো এই ইলেকশন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ...

ড. রশিদ মালিক: মানুষকে আগে বাঁচতে হয় তারপর উন্নয়নের কাজ করতে হয়। এই নির্বাচনে জয় লাভের মাধ্যমে আগে পাকাপাকিভাবে আমাদের ভিত্তিটা স্থাপন করতে হবে তারপর আমরা আমাদের দাবী, প্রয়োজন সব মিটিয়ে নিতে পারবো। তাই এই ইলেকশনে জিততেই হবে।

আপনার মতামত লিখুন :