• 33

দারসে কোরআন

খোদায়ী শাস্তি আসলে আমাদেরই কর্মফল

খোদায়ী শাস্তি আসলে আমাদেরই কর্মফল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে এফএম-৭৮৬ এর বিশেষ আয়োজন ‘দারসে কোরআন’ নামক অনুষ্ঠান। ক্বারী ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একক পরিচালনায় প্রতিদিন থাকছে এর আলাদা আলাদা পর্ব। আজ (২ মে) ২০তম পর্বে তিনি পবিত্র কোরআনের যে দুটি আয়াত উল্লেখ করেছেন সেখানে খোদাদ্রোহিতার ভয়াবহ পরিণাম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।


সূরা আলে ইমরানের ১১৬-১১৭ আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যারা সত্য প্রত্যাখ্যান করেছে অর্থাৎ কাফের হয়েছে তাদের সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদ আল্লাহর মোকাবেলায় কোন কাজে আসবে না। তারা দোজখের আগুনে পুড়বে এবং সেখানে চিরস্থায়ী হবে।’


‘তারা দুনিয়ার জীবনে যা ব্যয় করে, তার দৃষ্টান্ত উত্তপ্ত বাতাসের মতো যা এমন কোন সম্প্রদায়ের শস্য ক্ষেত্রে আঘাত হেনে তা ধ্বংস করে যে সম্প্রদায় নিজের ওপরই অত্যাচার করে। আল্লাহ তাদের প্রতি অত্যাচার করেনি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর অত্যাচার করেছে।’


১১৬ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আল্লাহকে অস্বীকার করার ব্যাপারে যেসব চিন্তাভাবনা বা অনুভূতি কাজ করে তার মধ্যে অন্যতম হলো, সম্পদ ও ক্ষমতার কারণে আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতা অনুভব না করা। অনেকে মনে করে, সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি থাকলে আল্লাহকে মানার কোন প্রয়োজন হয় না। এই আয়াতে এমন বোকামীসুলভ ধারণা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।


পৃথিবীতে সন্তান ও সম্পদ তাদেরকে রক্ষা করবে বলে ধরে নেয়া হলেও কেয়ামতের দিন তারা কী করবে? কেয়ামত বা বিচার দিবসে তাদের প্রচ্ছন্ন কুফরী দোযখের আগুনের মাধ্যমে প্রকাশিত হবে এবং আল্লাহকে অস্বীকার করার কারণে তারা জাহান্নামী হবে। 


১১৭ নম্বর আয়াতে কাফেরদের কিছু ভালো কাজের পরিণামের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন তাদের দান খয়রাতের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তারা এই পথে যা ব্যয় করে, তা এমন অনুপযোগী কৃষিক্ষেত্রে বোণা বীজের মত, যেখানে তীব্র তুফান, শীত ও গরম বাতাসের কারণে কোন ফসল ফলে না। 


কুফরী বা খোদাদ্রোহিতা এমন এক ঝড়ের মত যা কাফেরদের সৎ কাজগুলোকেও বিনষ্ট করে দেয়। কারণ, তাদের কাজের উদ্দেশ্য মহৎ নয়। কুফরীর মাধ্যমে যারা তাদের সৎ কাজকে ধ্বংস করে, তারা নিজেরাই তাদের ওপর জুলুম করে। আল্লাহ তাদের ওপর জুলুম করেন না। আল্লাহ কারো ওপর কখনও জুলুম করেন না।


এই দুটি আয়াত থেকে আমরা যে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি, তা হলো- প্রথমত, সন্তান-সন্ততি ও সম্পদের বড়াই করা এবং আল্লাহর প্রয়োজন অনুভব না করা কুফরী ও অকৃতজ্ঞতার নিদর্শন। দ্বিতীয়ত, ইসলামের দৃষ্টিতে ক্ষুধার্তের পেট ভরিয়ে দেয়াই দান খয়রাতের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়।


যদি এটাই একমাত্র উদ্দেশ্য হতো, তাহলে কাফের ও মুসলমানের দান খয়রাতের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকতো না। ইসলামের দৃষ্টিতে দাতার উন্নতি ও বিকাশও জরুরী। কুফরী বা খোদাদ্রোহীতা মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে অন্তরায়। তৃতীয়ত, খোদায়ী শাস্তি ও গজব আমাদেরই কর্মফল। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন অবিচার নয়।খোদায়ী শাস্তি আসলে আমাদেরই কর্মফল


পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে এফএম-৭৮৬ এর বিশেষ আয়োজন ‘দারসে কোরআন’ নামক অনুষ্ঠান। ক্বারী ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একক পরিচালনায় প্রতিদিন থাকছে এর আলাদা আলাদা পর্ব। আজ (২ মে) ২০তম পর্বে তিনি পবিত্র কোরআনের যে দুটি আয়াত উল্লেখ করেছেন সেখানে খোদাদ্রোহিতার ভয়াবহ পরিণাম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।


সূরা আলে ইমরানের ১১৬-১১৭ আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যারা সত্য প্রত্যাখ্যান করেছে অর্থাৎ কাফের হয়েছে তাদের সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদ আল্লাহর মোকাবেলায় কোন কাজে আসবে না। তারা দোজখের আগুনে পুড়বে এবং সেখানে চিরস্থায়ী হবে।’


‘তারা দুনিয়ার জীবনে যা ব্যয় করে, তার দৃষ্টান্ত উত্তপ্ত বাতাসের মতো যা এমন কোন সম্প্রদায়ের শস্য ক্ষেত্রে আঘাত হেনে তা ধ্বংস করে যে সম্প্রদায় নিজের ওপরই অত্যাচার করে। আল্লাহ তাদের প্রতি অত্যাচার করেনি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর অত্যাচার করেছে।’


১১৬ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আল্লাহকে অস্বীকার করার ব্যাপারে যেসব চিন্তাভাবনা বা অনুভূতি কাজ করে তার মধ্যে অন্যতম হলো, সম্পদ ও ক্ষমতার কারণে আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতা অনুভব না করা। অনেকে মনে করে, সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি থাকলে আল্লাহকে মানার কোন প্রয়োজন হয় না। এই আয়াতে এমন বোকামীসুলভ ধারণা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।


পৃথিবীতে সন্তান ও সম্পদ তাদেরকে রক্ষা করবে বলে ধরে নেয়া হলেও কেয়ামতের দিন তারা কী করবে? কেয়ামত বা বিচার দিবসে তাদের প্রচ্ছন্ন কুফরী দোযখের আগুনের মাধ্যমে প্রকাশিত হবে এবং আল্লাহকে অস্বীকার করার কারণে তারা জাহান্নামী হবে। 


১১৭ নম্বর আয়াতে কাফেরদের কিছু ভালো কাজের পরিণামের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন তাদের দান খয়রাতের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তারা এই পথে যা ব্যয় করে, তা এমন অনুপযোগী কৃষিক্ষেত্রে বোণা বীজের মত, যেখানে তীব্র তুফান, শীত ও গরম বাতাসের কারণে কোন ফসল ফলে না। 


কুফরী বা খোদাদ্রোহিতা এমন এক ঝড়ের মত যা কাফেরদের সৎ কাজগুলোকেও বিনষ্ট করে দেয়। কারণ, তাদের কাজের উদ্দেশ্য মহৎ নয়। কুফরীর মাধ্যমে যারা তাদের সৎ কাজকে ধ্বংস করে, তারা নিজেরাই তাদের ওপর জুলুম করে। আল্লাহ তাদের ওপর জুলুম করেন না। আল্লাহ কারো ওপর কখনও জুলুম করেন না।


এই দুটি আয়াত থেকে আমরা যে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি, তা হলো- প্রথমত, সন্তান-সন্ততি ও সম্পদের বড়াই করা এবং আল্লাহর প্রয়োজন অনুভব না করা কুফরী ও অকৃতজ্ঞতার নিদর্শন। দ্বিতীয়ত, ইসলামের দৃষ্টিতে ক্ষুধার্তের পেট ভরিয়ে দেয়াই দান খয়রাতের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়।


যদি এটাই একমাত্র উদ্দেশ্য হতো, তাহলে কাফের ও মুসলমানের দান খয়রাতের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকতো না। ইসলামের দৃষ্টিতে দাতার উন্নতি ও বিকাশও জরুরী। কুফরী বা খোদাদ্রোহীতা মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে অন্তরায়। তৃতীয়ত, খোদায়ী শাস্তি ও গজব আমাদেরই কর্মফল। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন অবিচার নয়।

আপনার মতামত লিখুন :