• 106

‘অভিনয় করেছি ১২০০ নাটক ও ২৩৫ সিনেমায়’

‘অভিনয় করেছি ১২০০ নাটক ও ২৩৫ সিনেমায়’

এফএম-৭৮৬ এর নিয়মিত আয়োজন নিউইয়র্ক ডায়েরিতে অতিথি হয়ে এসেছিলেন বিশিষ্ট অভিনেতা, কবি, গীতিকার, চিত্রশিল্পী, সংগঠক ও সরকারি কর্মকর্তা পীরজাদা শহীদুল হারুন। এ সময় নিজের জীবন এবং ক্যারিয়ার নিযে নানা প্রশ্নের উত্তরে দিয়েছেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন আরজে মোহনা 


আপনার বেড়ে ওঠা কোথায়? 

আমার জন্ম ময়মনসিংহে। বাবা ছিলেন মারফতি জগতের মানুষ। গান বাজনা, দেহতত্ত¡ নিয়ে কাজ করতেন। গানের প্রতি আমার আগ্রহের জন্ম সেখান থেকেই। এখন পর্যন্ত ৯৯টি গানের গীতিকার আমি। আমার সব থেকে বড় ভাই ছবি আঁকতেন, সেখান থেকে আমার ছবি আঁকার হাতেখড়ি। ১০৫টি ছবি আছে আমার, সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১৫টি একক চিত্র প্রদর্শনী হয়েছে। 


অভিনয়ও কি পরিবারের কাছ থেকেই শিখলেন?

আমার ইমিডিয়েট বড় ভাই দেখতে নায়কের মতো, অভিনয় করতেন আর জাদু প্র্যাকটিস করতেন। তার অভিনয় দেখেই বিষয়টার প্রতি আমারও ঝোঁক তৈরি হয়। সেই থেকে শুরু, এখন পর্যন্ত ১২০০ নাটক এবং ২৩৫টি সিনেমায় অভিনয় করেছি। জাদুও শিখেছি ওই ভাইয়ের কাছেই। পরবর্তীতে ভারতের প্রখ্যাত জাদুশিল্পী পণ্ডিত পান্ডে, সঞ্জীব আচার্য্যের কাছে জাদু বিদ্যায় তালিম নিয়েছি। ১৯৭৭ সালে এসএসসি পাশ করার পর ময়মনসিংহের একটি অডিটোরিয়ামে উপমহাদেশের প্রথম ঘূর্ণায়মান মঞ্চে আমার একক জাদু প্রদর্শন হয়েছে। 


কবিতা লেখা কিংবা আবৃতি কখন থেকে?

শিশু বয়স থেকে কবিতা আবৃত্তি করেছি। পরবর্তীতে কবিতা লেখা শুরু করেছি। আমার ৩টি কবিতার বইও প্রকাশিত হয়েছে। 


আপনি তো শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, এরশাদের সামনে জাদু দেখিয়েছেন? সেই অনুভূতি কেমন?

আগেই একটা কথা বলি, ছোট বেলায় বঙ্গবন্ধুর সাথেও দেখা হওয়ার সুযোগ হয়েছিলো। তিনি আমার বুদ্ধি দেখে খুশি হয়ে বাবাকে বলেছিলেন, একদিন এই ছেলেই তোমার সম্মান আরও বাড়িয়ে তুলবে। নিঃসন্দেহে বড় মাপের মানুষের সামনে নিজের কাজ উপস্থাপন করার অনুভূতি খুবই ভালো। তবে ওই সময়টায় শুধু এটাই ভেবেছি- আমি একা, আমার সামনে আর কেউ নেই, কিচ্ছু নেই। এতে করে কাজটা সহজ হয়, নার্ভাসনেস কাজ করে না।


এত এত গুণের মধ্যে নিজের কোন পরিচয়টা দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

সরকারি চাকরি শেষ হলে সবাই আমাকে বলবে অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব। কিন্তু এই কবিতা লেখা, আবৃত্তি, অভিনয়, গান, ছবি আঁকা, জাদুবিদ্যা- এসব ব্যাপারগুলোতে কখনোই কিন্তু আমাকে অবসরপ্রাপ্ত বলা হবে না। তাই স্বার্থপরের মতো বলছি, এগুলোই বেশি ভালো লাগে।


আপনার মূল্যায়নে এখন পর্যন্ত আপনার অভিনীত সেরা কাজ কোনটি?

আমি এখনও শিখছি, আমার দৃষ্টিতে সেরা হতেই পারিনি। তবুও দর্শকদের মাঝে গোলাপজান সিনেমায় অত্যাচারী জমিদারের চরিত্র এবং হাজী শরীয়তউল্লাহ সিনেমায় হাজী শরীয়তউল্লাহর চাচার চরিত্রটা জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। খলচরিত্রেও অভিনয় করেছি। এতোটাই বাস্তবভাবে নিজেকে খারাপ করে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলাম যে, সেন্সর সেই অংশ বাদই দিয়েছিল।


নতুন প্রজন্মের অভিনয় শিল্পীদের উদ্দেশ্যে কি বলবেন?

সবাইকে বলবো সুস্থ থাকতে, যেন ঠিক মতো নিজের কাজটা করতে পারে। যে কোনো চরিত্র করার সময় সবার আগে স্ক্রিপ্টটা ভালো করে পড়ে বুঝে নিয়ে তারপর ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হবে যেন প্রত্যেকটা দৃশ্য স্পষ্ট ও সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা যায়। অবশ্যই ডিরেক্টরের কথা শুনতে ও মানতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :