• 163

গান লিখে-সুর করে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে চাই: তানভীর তারেক

গান লিখে-সুর করে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে চাই: তানভীর তারেক

নিউইয়র্ক ডায়েরিতে তানভীর তারেক

এফএম -৭৮৬’র নিয়মিত আয়োজন 'নিউইয়র্ক ডায়েরিতে' অতিথি হয়ে এসেছিলেন খ্যাতিমান গীতিকার, সুরকার, শিল্পী,  সঞ্চালক, সাংবাদিক এবং ইউটিউবার তানভীর তারেক। কথা বলেছেন তাঁর জীবনের নানা বিষয় নিয়ে। সাথে ছিলেন আরজে মোহনা।


আরজে মোহনা: এই মুহূর্তে ব্যস্ততা কি নিয়ে? 

তানভীর তারেক: আপাতত ২টা গান ও অরুণা বিশ্বাসের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শর্টফিল্মের আবহ সঙ্গীত নিয়ে কাজ এগোচ্ছি। তাছাড়া পত্রিকার বিনোদনের পাতার কাজ তো প্রতিদিনের, সেটা তো করতেই হচ্ছে। টিভি শো কমিয়ে ইউটিউবে কন্টেন্ট তৈরি করা বাড়িয়ে দিয়েছি।


আরজে মোহনা: ২০১৯ সালের সেরা সুরকার হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন-এই অনুভূতিটা কেমন? 

তানভীর তারেক: নাম ঘোষণা করার পর মনে হলে ২৩ বছরের পরিশ্রম আর চেষ্টার একটা স্বীকৃতি পেলাম। যারা এক সময় খোঁজ নিতেন না তারাও আনন্দের অংশীদার হচ্ছেন, সাংস্কৃতিক অঙ্গণে। এটাই যেহেতু সব থেকে বড় পুরস্কার তাই দায়িত্ব বেড়ে গেলো এটা বলবো না। আমি গত ২৩বছর দায়িত্বশীল ছিলাম বলেই রাষ্ট্র আমাকে পুরস্কারটা দিয়েছে। 


আপনার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা কোথায়? 

আমার দাদা বাড়ি পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়ায়, নানা বাড়ি পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে। জন্ম ঈশ্বরদী। এসএসসি পর্যন্ত সেখানেই ছিলাম। বাবার প্রকাশনীর ব্যাবসা ছিলো উত্তরবঙ্গ কেন্দ্রিক। তাই ছোটবেলা থেকেই পত্রিকা-বই এসবের গন্ধ নিয়েই বড় হয়েছি। যখন চলে আসতে হলো তখন মনে হলো আমার শেঁকড়ে টান লাগলো। কারণ একটা শহরে এতোগুলো দিন বেড়ে ওঠা। পালাতেও চেষ্টা করেছিলাম কিছু কাপড় আর সার্টিফিকেট নিয়ে কিন্তু ব্যর্থ হয়েছিলাম। এইচএসসি পর্যন্ত আবার থাকলাম পিরোজপুরে। সেখানেই কলেজে পড়া নতুন বন্ধু-বান্ধব। তারপর চলে আসলাম ঢাকায়। আমাদের পরিবার এবং আত্মীয় স্বজনের মধ্যে বেশিরভাগই ইঞ্জিনিয়ার। তো সেই আশা নিয়ে এলাম ঢাকায় যে কোনো আত্মীয়ের বাসায় থেকে কোচিং করবো বুয়েটের জন্য। তখন জীবনের অত্যন্ত তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো। যাদের বাসায় এসেছিলাম তারা নানাভাবে বোঝালেন কিছু দিন বেড়ানো হয়তো যাবে কিন্তু পাকাপাকিভাবে থাকা যাবে না। পরবর্তীতে এক বন্ধুর বাসায় থাকার ব্যবস্থা করলাম। সেই বন্ধুর বাবা-বোন সবাই আমাকে খুবই সমীহ করতেন। সেই বোন এখন নিউইয়র্কে থাকেন। আমেরিকা গেলে আমার সেখানেই থাকা হয়। সে বছর বুয়েটের ওয়েটিং লিস্টে ছিলাম। আরেকটা বছর সময় দেয়ার মতো সময় আমার কাছে ছিলো না। পরে পত্রিকায় চাকরি হলো। নামমাত্র পড়ালেখাটা চালিয়ে গেলাম। কারণ এ শহরে আমাকে টিকে থাকতে হবে পরিবারের প্রতি দায়িত্বও নিতে হবে। 


গানের প্রতি ঝোঁক কিভাবে? 

আমার ছোট খালা গান শিখতেন ললিত কলা একাডেমিতে। খুব ভালো হাওয়াইয়ান গিটার বাজাতেন। ঘরের ভেতর আমরাই ছিলাম তার দর্শক। তাঁর কাছে গিটার বাজানো শুনেই সুরের প্রতি আগ্রহ। আমার একজন মামা ছিলেন ‘বোগদাদ মামা’ বলে ডাকতাম। এলআরবি -তে তখন ‘ময়না’ অ্যালবামের একটা গান টিভিতে গাইছিলেন বাচ্চু ভাই। তখন তার সেই কালো চশমা দেখে ভেবেছিলাম যে তিনি অন্ধ। মামাও আমার ভুলটা শুধরে দেননি। তিনিও বলেছিলেন যে অন্ধ হয়েও কতো প্রতিভা। এই গল্পটা আমি ঢাকায় এসেও আইয়ুব বাচ্চু ভাইকে শুনিয়েছিলাম তিনি অনেক হেসেছিলেন। পরবর্তীতে ভাবলাম আমিও একটা গিটার কিনবো তবে সেটা স্প্যানিশ গিটার। পাবনাতে গেলাম কিন্তু তখন সেই গিটার কেনার মতো টাকা আমার ছিলো না। পরে আমার এই আগ্রহ দেখে খালা আমাকে গানের জন্য ললিত কলা একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দিলেন। আমরা একটা গ্রুপে পাঁচজন ছিলাম। বিদ্যুৎ, ভুট্টো, লিখন, তুহিন আর আমি। বিকেল হলেই নতুন বের হওয়া ক্যাসেটের গানগুলো জোরে সাউন্ড দিয়ে বাজিয়ে সবাই একসাথে গাইতাম। এভাবেই আসলে ছেলেবেলার গান গাওয়া।


প্রিয় কাজগুলোর ব্যাপার কিছু বলুন?

আমি আসলে জনপ্রিয় না বা হতে চাই না। জনপ্রিয় হতে হলে শ্রোতা বা দর্শকরা যা বলবেন তাই করতে হয়, কিন্তু আমি সেটা করতে বাধ্য নই। আমি যদি সমাজকে বিচলিত না করে আমার পছন্দের কাজ দিয়ে সমাজকে সংস্কারের কাজ করতে পারি তাহলে তো কারো সমস্যা হওয়ার কথা না। বলতে পারেন এটা আমার দম্ভের জায়গা। তবে এটা বাজি ধরে বলতে পারি এখন পর্যন্ত যে ৩০০ গান আমি লিখেছি, সুর করেছি সবগুলোই ব্যবসা সফল হয়েছে। এই সবই মৌলিক গান এবং সুর। অনেক অফার ফিরিয়ে দিয়েছি এটা ভেবে যে গতানুগতিক সস্তা কথা আমি লিখবো না। আমার গান শুনে সুবীর দা নিজে আমাকে বলেছিলেন আমার জন্য ১০টা গান বাঁধো এটা কিন্তু আমার অর্জন। 


আগামী দিনে নিজেকে কোথায় দেখার স্বপ্ন দেখেন?

বেঁচে থাকলে গানটা কখনোই ছাড়তে চাই না। গান লিখে, সুর করে যেতে চাই। গত দুই যুগ ধরে এটার সাথে আছি এভাবে থেকেই নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাই। অবশ্যই মৌলিক গানই করতে চাই কোনো কপি করা বা গানের বাইরের লোককে আমি অকারণে প্রশ্রয় দিতে চাই না। সামনের কাজগুলো অনেক সাবধানে, হিসেব করে,যত্ন করে করতে চাই।

আপনার মতামত লিখুন :