• 152

‘করোনা ভ্যাকসিন নিতে ইসলামের কোনো বাধা নেই’

‘করোনা ভ্যাকসিন নিতে ইসলামের কোনো বাধা নেই’

সম্প্রতি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিয়েছেন নিউইয়র্ক কুইন্সের দারুস সালাম মসজিদের খতিব, ইমাম আবদুল মুকিত। কেমন ছিল তার সে অনুভূতি? ভ্যাকসিন হালাল তো? কেনইবা তিনি ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহী হলেন? তাছাড়া একজন মুমিন করোনা পরিস্থিতিতে কীভাবে চলা উচিৎ? পারষ্পরিক সম্প্রীতি কীভাবেই বা অটুট রাখা যায় মহামারির এ পরিস্থিতিতে? এসব বিষয় নিয়েই তিনি কথা বলেছেন এফএম-৭৮৬ এর সঙ্গে। তাকে সঙ্গ দিয়েছেন এফএম-৭৮৬ এর সাব-এডিটর কাউসার লাবীব


সম্প্রতি আপনি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিলেন। এ বিষয়ে আপনার অনুভূতি জানতে চাই।


চিকিৎসায় সেবায় ঔষধ ব্যবহার সুন্নাত এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের সুরক্ষার জন্য এটি গ্রহণ খুবই জরুরি। এ দু’টি বিষয় সামনে রেখে ভ্যাকসিন নেয়া। তাছাড়া আমি ভ্যাকসিন নেয়ার পাশাপাশি অন্যদের উৎসাহিত করার জন্য সে ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছি। কেননা আমি যদি শুধু নিজে ভ্যাকসিন নিই; তাহলে কিন্তু আমি সম্পূর্ণ নিরাপদ নই। পাশের সবাইকেই এটি গ্রহণ করাতে আগ্রহী করতে হবে। আল্লাহর রহমতে এবং ভ্যাকসিনের উসিলায় তবেই এ মহামারি থেকে নিরাপদ থাকার আশা করা যায়।


কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছেন। অনেকে তো ইসলামি শরিয়ায় এর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। আমরা আপনার কাছে মূল বিষয়টি জানতে চাই। এ ভ্যাকসিন নেয়া কী হালাল?


আমি ভ্যাকসিন বিষয়ে বেশকিছু চিকিৎসা বিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন যে, ‘এতে ক্ষতিকারক কিংবা হারাম কিছু নেই।’ তাই এটি হারাম হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।


কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে আমাদের কীভাবে চলা উচিৎ? এর থেকে সতর্ক থাকার বিষয়ে যে নির্দেশনাগুলো দেয়া হচ্ছে এর সঙ্গে কি ইসলামের কোনো সাংঘর্ষিকতা আছে?


আপাত দৃষ্টিতে করোনা মহামারি সতর্কতায় যে নির্দেশনাগুলো দেয়া হচ্ছে তাতে ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু আছে বলে মনে হচ্ছে। কেননা নিরাপদ থাকার কথা ইসলামও বলে। আর জীবন সুরক্ষা তো ইসলামে আবশ্যকের পর্যায়ে। তাই সুরক্ষার জন্য প্রতিটি নির্দেশনা আমাদের মেনে উচিৎ। যেমন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল। তবে এ সামাজিক দূরত্ব যেন আমাদের মনের দূরত্ব তৈরি না করে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। কেননা আমরা একে অপরের ভাই। একই সুতায় গাঁথা।


করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতব্যক্তি দেখা যাচ্ছে এমনকিছু আচরণ আমাদের কাছ থেকে পাচ্ছে যা অনেকটা মানবাত বহির্ভূত। এ বিষয়ে আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিৎ?


এ বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। কেননা ইসলাম বলে একজন মৃতব্যক্তি সমাজের কাছে যথাযথ সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখে। তাকে সম্মানের সঙ্গে গোসল ও কাফন দিয়ে জানাযার পর দাফন করা সমাজের প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। তাছাড়া চিকিৎসা বিজ্ঞান তো বলে কেউ মারা যাওয়ার দুইঘণ্টা পর তার শরীরে কোনো ভাইরাস আর জীবিত থাকে না। তাই আমাদেরকে এ বিষয়ে সচেতন ও যত্নশীল হতে হবে। আলহামদুলিল্লাহ করোনা পরিস্থিতির প্রথম সময়ে মৃতব্যক্তির সঙ্গে যেমন আচরণ করা হতো এখন এটা একেবারেই কমে আসছে। এটা খুবই পজেটিভ দিক। তবে আরো স্বাভাবিক হতে হবে। 

আপনার মতামত লিখুন :