• 60

নিউইয়র্ক ডায়েরি

‘অনুবাদ সাহিত্যের গুরুত্ব অপরিসীম’

‘অনুবাদ সাহিত্যের গুরুত্ব অপরিসীম’

নিউইয়র্কের জনপ্রিয় কমিউনিটি নিউজ নেটওয়ার্ক এফএম-৭৮৬ এর নিয়মিত আয়োজন নিউইয়র্ক ডায়েরির সাহিত্য বিষয়ক সাপ্তাহিক বিশেষ আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক কাজী জহিরুল ইসলামআরজে মোহনার সাথে আলাপচারিতায় তিনি বলেছেন সাহিত্য ও করোনাভাইরাস নিয়ে।


বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে...

আমাদের শেকড়-স্বজন সব তো বাংলাদেশেই। বাংলাদেশের অবস্থা এখন প্রথমবারের আক্রমণের থেকেও বেশি খারাপ। অনেক মানুষ প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছে, উন্নয়নশীল একটা দেশে আইসিইউ এত কম, এটা ভাবলেও কেমন যেন লাগে। লকডাউন চলছে, পুনরায় দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যদিও উন্নত বিশ্বে লকডাউন দেওয়ার আগেই জনগণের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, প্রণোদনা দেওয়া, বাড়ি ভাড়া মওকুফ করে দেওয়া নানারকম ব্যবস্থা করা হয়। বাংলাদেশ সরকারেরও তেমন কিছু ব্যবস্থা করে গ্রহণ করে লকডাউন দেওয়া উচিত। জনগণের উদ্দেশে যা বলবো সেটা হলো, যাদের বাইরে কাজ না করলে দিন অতিবাহিত হয়ই না তারা হয়তো বের হবেন। কিন্তু যাদের সব কিছুর ব্যবস্থা রয়েছে, সংকুলান রয়েছে তারা দয়া করে লকডাউন টা সিরিয়াসলি নিয়ে মেনে চলবেন।


আপনার মতে সাহিত্য কি? 

সাহিত্য শিল্পেরই একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। আগে একটা সংশয় ছিলো যে, শিল্পের জন্য সাহিত্য নাকি জীবনের জন্য সাহিত্য? কিন্তু এখন আর এই সংশয়টা নেই। এখন শিল্প এবং জীবনের সাহিত্যের আলাদা আলাদা শ্রেণি তৈরি হয়েছে।


অনুবাদও কি সাহিত্য হতে পারে?

অবশ্যই অনুবাদ সাহিত্যেরই একটা অংশ। কারণ, একটা ভাষার সাহিত্যকে অনুবাদের মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি, পড়তে পারি। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রচনা এসব অনুবাদ করা অনেকাংশেই সহজ। কিন্তু কবিতার অনুবাদ যথেষ্ট কঠিন। কারণ এতে কবির সাথে অনুবাদকেরও সম্পূর্ণ একটা কবিতা ছন্দে লিখার যোগ্যতাটা থাকতে হয়।


অনুবাদের গুরুত্ব কতটা?

অনুবাদের গুরুত্ব অপরিসীম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পেয়েছিলেন তার লেখা কবিতা অনুবাদ হয়েছিল বলেই। এতে সবাই তার লেখা পড়তে পেরেছে। একইভাবে বিশ্বের সকল ভালো ভালো লেখারই যদি অনুবাদ হয় তাহলে তার মান এবং পাঠক কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। একবার আমার লেখা কবিতা একটা আলবেনিয়ান পত্রিকায় ছাপা হয় সেখানে বাঙালি কবি হিসেবে নাম জানেই তারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, তসলিমা নাসরিন এবং আমি কাজী জহিরুল ইসলাম। এর মাঝে না হলেও একশো ভালো এবং মানসম্মত কবি গিয়েছেন। কিন্তু তাদেরকে বাঙালিরা ছাড়া আর কেউ চিনেন না শুধুমাত্র তাদের লেখাগুলো অনুবাদ হয়নি বলে। 


আপনার কোন কোন লেখা অনুবাদ হয়েছে বা আপনি কয়টি বই অনুবাদ করেছেন?

আমার দুটি অনুবাদের বই রয়েছে। নিউজিল্যান্ডের আদিবাসীদের একটা কবিতার বই এখন পড়ছি অনুবাদ করার চেষ্টা করছি। আমি কবিতা ছাড়া অন্য কিছুই অনুবাদ করবো না। কবিতায় আমার নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় থাকে যেটা বাকি সবে হবে না। আমার লেখা বেশ কিছু কবিতা এখন পর্যন্ত স্প্যানিশ, আলবেনিয়ান, ইংলিশে অনুবাদ হয়েছে। তবে বই বেরিয়েছে দুটি। একটি ইংলিশ অন্যটি ওড়িয়া ভাষায়। আর আমি নিজেও বেশ কিছু ইংরেজি বই লিখেছি।


বাংলাদেশের জন্য অনুবাদ নিয়ে কি বলবেন?

বাংলা সাহিত্যে বেশ ভালো কিছু লেখকও আছে আবার খুব ভালো মানের কিছু লেখাও আছে। তাই দায়িত্ব নিয়ে বিশ্বের দরবারে এই লেখাগুলো পৌঁছে দিতে হবে। এই দায়িত্ব বাংলা একাডেমি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিতে পারে। যোগ্য কাউকে দায়িত্ব দিয়ে করাতে হবে। তবে স্বজনপ্রীতি করে পরিচিতজনদের লেখা অনুবাদ করলে হবে না। বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী লেখাগুলোই করতে হবে। একই সাথে প্রকাশনীর বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে। যে কোনো দেশীয় প্রকাশনী প্রকাশ করলে সেটা আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোটা আবার কষ্টকর হয়ে যাবে। তাই আমেরিকা বা ইংল্যান্ড এর এমন কোনো প্রকাশনীর দ্বারা প্রকাশ করাতে হবে যেন সহজেই আন্তর্জাতিক বাজারে বইগুলো পাওয়া যায়।

আপনার মতামত লিখুন :