• 60

নোবেল বিজয়ী মুসলিমরা

নোবেল বিজয়ী মুসলিমরা

নোবেল পদক

গবেষণা-উদ্ভাবন-মানবকল্যাণ। এসব ক্ষেত্রে সাফল্য এবং দৃষ্টান্তমূলক অবদানের জন্য দেয়া হয় নোবেল। বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরষ্কারের এই তালিকায় আছেন ১৩ জন মুসলিম ব্যক্তিত্ব। তাদের সম্পর্কে জেনে নেবো সংক্ষেপে। 


মুহাম্মদ আনওয়ার সাদাত: নোবেল জয়ী প্রথম মুসলমানের তালিকায় রয়েছেন মিসরের তৃতীয় এই রাষ্ট্রপতি। ইয়ম কিপুর যুদ্ধের পর মিশর-ইসরাইল শান্তিচুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এর স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৮ সালে শান্তিতে নোবেল জেতেন আনোয়ার সাদাত।


মুহাম্মদ আবদুস সালাম: দ্বিতীয় মুসলিম হিসেব ১৯৭৯ সালে নোবেল পদক জেতেন পাকিস্তানি এই পদার্থবিজ্ঞানী। দুর্বল তড়িত্তত্ত্ব আবিষ্কারের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরষ্কার পেয়েছিলেন তিনি।


নাজিব মাহফুজ: ১৯৮৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পদক পান মিশরীয় এই সাহিত্যিক। মিশরের জীবনধারা নিয়ে উপন্যাস ‘কায়রো ট্রিলজি’র জন্য এই স্বীকৃতি পান তিনি।


ইয়াসির আরাফাত: শান্তিতে নোবেল জয়ী প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলমান তিনি। ঐতিহাসিক অসলো চুক্তি সাক্ষরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ১৯৯৪ সালে এই স্বীকৃতি পান ইয়াসির আরাফাত।


আহমদ জুয়েল হাসান: প্রথম মুসলিম রসায়নবিদ তিনি। সেইসাথে দ্বিতীয় মুসলিম বিজ্ঞানী হিসেবে ১৯৯৯ সালে নোবেল পুরস্কার তুলে দেয়া তার হাতে। ফেমটোসেকেন্ড স্পেকট্রোস্কোপি ব্যবহার করে মাইক্রোস্কোপ আবিষ্কারের জন্য এমন স্বীকৃতি পান তিনি।


শিরিন এবাদি: শান্তিতে নোবেল জয়ী প্রথম মুসলিম নারী তিনি। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদান রাখায় ২০০৩ সালে এই পুরস্কার লাভ করেন এই ইরানি আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী।


মুহাম্মদ আল-বারাদি: দ্বিতীয় মিশরীয় হিসেবে ২০০৫ সালে নোবেল জেতেন দেশটির উপরাষ্ট্রপতি। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। স্বীকৃতিস্বরূপ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।


ড. মুহাম্মদ ইউনূস: একমাত্র বাংলাদেশি মুসলিম হিসেবে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেছেন তিনি। ২০০৬ সালে শান্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক এই পুরষ্কার পান মুহাম্মদ ইউনূস।


ওরহান পামুক: তুরস্কের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কথাসাহিত্যিক হিসেবে ২০০৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন তিনি। চিত্রনাট্য সম্পাদক ও একজন শিক্ষকও ওরহান পামুক। তাঁর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ উপন্যাস ‘নিউ লাইফ’। 


তাওয়াক্কুল কারমান: দ্বিতীয় মুসলিম নারী হিসেবে ২০১১ সালে শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, প্রথম ইয়েমেনি নারী হিসেবে এমন সম্মানজনক পুরষ্কার পেয়েছেন কারমান। 


মালালা ইউসুফ জাই: সবচেয়ে কম বয়সে নোবেল জয়ী এই পাকিস্তানী। শিক্ষা এবং নারী অধিকার নিয়ে আন্দোলনের জন্য ২০১৪ সালে তিনি এই পুরষ্কার জেতেন। 


আজিজ সানজার: ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ পুনরায় উৎপাদনসংক্রান্ত গবেষণার জন্য ২০১৪ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন তিনি। আজিজ সানজার তুর্কি বংশোদ্ভূত একজন আমেরিকান প্রাণরসায়নবিদ।


নাদিয়া মুরাদ: শান্তিতে নোবেল বিজয়ীদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ তিনি। ২০১৮ সালে এই পুরষ্কার লাভ করেন ইরাকের কুর্দি মানবাধিকারকর্মী নাদিয়া মুরাদ। 

আপনার মতামত লিখুন :