• 38

ট্রাম্পের শাসনামলে বেশি আলোচিত অভিবাসন নীতি

ট্রাম্পের শাসনামলে বেশি আলোচিত অভিবাসন নীতি

মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসন প্রত্যাশিদের ঢল

চার বছরের শাসনামলের ইতি ঘটতে যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ক্ষমতায় থাকাকালে নানা নীতি গ্রহণ করেছেন তিনি। অনেকগুলো নিয়ে আছে বিতর্কও। তবে সবচেয়ে আলোচিত অভিবাসন ইস্যু। ২০১৬ নির্বাচনের প্রচারণার সময়ই ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন ক্ষমতায় গেলে অভিবাসী এবং শরণার্থী প্রবেশে কড়াকড়ি করবেন। ক্ষমতায় আসার পর ঠিক তাই করেছেন। বাস্তবায়ন করেন সেই প্রতিশ্রুতি। জারি করেন নির্বাহী আদেশ। শরণার্থী আর অভিবাসন প্রত্যাশিদের ঠেকাতে মেক্সিকো সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। তৈরি করা হয় দীর্ঘ দেয়াল। নিয়মিত চলে ব্যাপক ধরপাকড়। এক পরিসংখ্যান বলছে,  গেল ২০১৭ সালে আটক করা হয় প্রায় ৩ লাখ শরণার্থী আর অভিবাসন প্রত্যাশীকে। ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় তিনগুন। 


অবশ্য আগে এমনটা ছিলো না। ১৯৮০ সালে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিলেন প্রায় ২ লাখ শরণার্থী। জর্জ বুশ জুনিয়রের সময় থেকে বদলাতে থাকে দৃশ্যপট। তার আমলে এই সংখ্যা অনেক কমে যায়। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর তা আরও জোড়ালো হয়। ২০১৯ সালে মাত্র ৩০ হাজার শরণার্থী আশ্রয় পায় যুক্তরাষ্ট্রে। অর্থাৎ শরণার্থীর সংখ্যা কমছেই দেশটিতে।

কড়াকড়ি হয়েছে মুসলিম শরণার্থী প্রবেশের ক্ষেত্রেও। এক পরিসংখ্যান বলছে, ধর্মের ভিত্তিতে শরণার্থী প্রবেশে ২০০৫ সালে ৩৫ শতাংশ ছিলো মুসলিম।  সেখানে তা ২০১৫ সালে আরও বাড়ে। দাড়ায় ৪৫ শতাংশে। অথচ ট্রাম্পের শাসনামলে এসে তা অনেক কমেছে। ২০১৯ সালে এই যা হয়েছে বড়জোড় ২০ শতাংশ। 


এর বাইরে ভিসার ক্ষেত্রেও কঠোর হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। স্থায়ী বাসিন্দার ভিসা কমানো হয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ তে যে সংখ্যা ছিলো ১২ লাখ তা ২০১৯-এ এসে হয়েছে ১০ লাখে। শিক্ষার্থী ভিসাও কমেছে প্রায় ২ শতাংশ। এমন বাস্তবতায় অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা ট্রাম্প আবারও ক্ষমতায় এলে অভিবাসনের ক্ষেত্রে আরও কঠিন হবে তার প্রশাসন।

আপনার মতামত লিখুন :