• 49

মতামত

আমেরিকায় মুসল্লিদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন-অধিকারে মসজিদ কমিটির ভুমিকা

আমেরিকায় মুসল্লিদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন-অধিকারে মসজিদ কমিটির ভুমিকা

হাসান আলী

আমেরিকাতে ICNA ও ISNA হিসাব মতে, ৩ হাজার মসজিদ আছে ৷ নিউইয়র্ক সিটিতে ৪০০ শতের উপরে মসজিদ এমনকি Bronx এ ৭২ টির মত মসজিদ৷ আমার মতে, মসজিদ কমিটির দায়িত্ব হল মসজিদের হিসাব নিকাশের স্বচ্চতা ঠিক রাখা এবং মুসল্লিদের অর্থনেতিক উন্নয়নে ও মুসলমানদের অধিকার আদায়ে ভুমিকা রাখা ৷ আমেরিকা ইমিগ্র্যান্ট কান্ট্রিতে সব ধর্মের-বর্ণের ও দেশের মানুষের সমান অধিকার৷ কমিউনিটির দরিদ্র মানুষের উন্নয়নে সিটি, স্টেট ও ফেডারের সরকারের ফান্ড আছে৷ অন্য দিকে সুবিধা বঞ্চিত মুসলিদের সিটি, স্টেট ও ফেডারেল জবের জন্য পলিটিশিয়ানদের সহায়তায় মসজিদে জব সেমিনারের ব্যবস্থা করা৷


অন্যদিকে মুসলিম ব্যবসায়ীদের জন্য সিটি স্টেট ও ফেডারেল বিজনেস কন্ডাক্ট পাওয়ার ব্যাপারে পলিটিশিয়ানদের সহায়তায় সেমিনারে ব্যবস্থা করা৷ মুসলিম ব্যবসায়ীদের জন্য কংগ্রেসম্যানদের সহায়তায় সুদমুক্ত ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করা৷ প্রতিটি মসজিদ এলাকায় সিটি স্টেট ও ফেডারের গভর্ণমেন্টের জবে যে সব মুসলমান আছেন তাদের সহায়তায় প্রতি মাসে মসজিদে জব সেমিনারে ব্যবস্থা করা৷ উদাহরণ হিসাবে বলতে চাই এলায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান লেবার (ASAAL) প্রতি মাসে পার্চেস্টারে প্রতি মাসে শেষ শনিবার বিকালে খান টিউটোরিয়েলে জব সেমিনারের ব্যবস্থা করে থাকে৷ মসজিদ এলাকায় যে সমস্ত ছাত্র GED পাশ করেনি তাদের জন্য সিটির ফান্ড সংগ্রহ করে টিচারের মাধ্যমে ক্লাশ করানো, হাইস্কুল পাশ ছাত্রদের জন্য কম্পিউটার ট্রেনিং দিয়ে উচ্চতর বেতনে চাকরির ব্যবস্থা করা৷ 


আমেরিকান সরকারের ফান্ডের অভাব নেই, দরকার উপযুক্ত লোকের মাধ্যমে পলিটিশিয়ানদের সাথে যোগাযোগ করে ফান্ড সংগ্রহ করা৷ রমজান মাসকে মুসলিম হেরিটেজ মাস ঘোষণার জন্য আমেরিকান কংগ্রসে বিল উত্থাপনের চেষ্টা করলে বিল পাশ করা কঠিন নয়৷ আমেরিকার উন্নয়নে মুসলমানদের অনেক অবদান আছে৷ ১৪৯২ সালে কলম্বাস যখন আমেরিকা আবিষ্কার করেন তখন তাহার তিনটি জাহাজের মধ্যে দুইটি জাহাজের ক্যাপ্টন ছিলেন মুসলমান৷ ১৭৭৬ সালে আমেরিকার স্বাধীনতার পর প্রথম মুসলিম দেশ মরোক্কো আমেরিকাকে স্বীকৃতি দেয়৷ আমেরিকার সর্ব উচ্চ বিল্ডিং এর নির্মাতা বাংলাদেশের ড. ফজলুর রহমান খান, ভাসন্ত ট্রেনের আবিষ্কারক ড. আতাউল করিম, আমেরিকার প্রথম মুসলিম অ্যাম্বাসেডর ওসমান সিদ্দীকী এ সব কিছু মুসলিম হেরিটেজ মাসে তুলে ধরতে পারব৷ আমেরিকা প্রতি বছর ৩ হাজার ১ শত বিলিয়ন ডলারের আমদানী ও ২ হাজার ৫শত বিলিয়ন ডলারের রপ্তানী করে৷ প্রতিটি মসজিদে মুসলিম ব্যবসায়ীদের সহায়তায় সেমিনার করে বিশ্বের ৫৭ টি মুসলিম দেশে আমেরিকার রপ্তানি বৃদ্ধি করা।


অন্যদিকে বাংলাদেশে শ্রমের মূল্য সস্তা, তাই আমেরিকার ৩৩ কোটি জনগণের চাহিদা মত পণ্য বাংলাদেশে তৈরি করে আমেরিকায় রপ্তানি করলে বাংলাদেশের ৪ কোটি বেকার লোকের কর্মের সংস্থান হবে৷ বাংলাদেশের মাথা পিছু আয় বেড়ে গেলে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে৷ অন্যদিকে আমেরিকার মুসলিম ব্যবসায়ীগণ অর্থিনৈতিকভাবে লাভবান হবে৷ আল্লাহ আমাদের সহায় হউন৷


লেখক : হাসান আলী, প্রেসিডেন্ট অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশি আমেরিকান্স৷ (ফেসবুক থেকে নেয়া)


আপনার মতামত লিখুন :