• 74

কুরআনের বিস্ময়: দুই জলরাশির মধ্যকার ব্যবধান

কুরআনের বিস্ময়: দুই জলরাশির মধ্যকার ব্যবধান

তিনি প্রবাহিত করেছেন দুই জলরাশিকে; তাদের উভয়ের মধ্যে রয়েছে এক ব্যবধান যা তারা অতিক্রম করতে পারে না। (সূরা আর-রাহমান, আয়াত: ১৯-২০)


আরবি ভাষায় বারযাখ (برزخ) শব্দের অর্থ বাধা বা ব্যবধান। এই ব্যবধান কোনো বস্তুগত ব্যবধান নয়। আরবিতে মারাজা (مرج) শব্দের অর্থ করলে বোঝায় দুটি বস্তুর পরস্পর মিলিত হয়ে মিশ্রিত হয়ে যাওয়া।


প্রাচীনকালের তাফসীরকারকরা পাশাপাশি দুইটি ভিন্ন শব্দের অবস্থানের ব্যাখ্যা প্রদান করতে গিয়ে হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছিলেন। তারা বুঝতে পারছিলেন না, কি করে দু্ইটি ভিন্ন নদী বা সাগরের পানি পাশাপাশি একত্রে মিশ্রিতভাবে প্রবাহিত হয় কিন্তু তাদের মাঝে ব্যবধান বিদ্যমান থাকে।


আধুনিক বিজ্ঞান আবিস্কার করেছে, দুইটি ভিন্ন সাগরের পানি যেখানে একত্রিত হয়, সেখানে তাদের মধ্যে একটি ব্যবধান থাকে। এই ব্যবধান উভয় সাগরের জলরাশিকে এমনভাবে বিভক্ত করে যে, তারা তাদের নিজস্ব তাপমাত্রা, মিষ্টতা বা লবনাক্ততা এবং ঘনত্ব বজায় রেখেই পাশাপাশি চলতে পারে।


সমুদ্রবিজ্ঞানীদের এই আবিস্কার কুরআনে বর্ণিত আয়াতটির যথার্থ ব্যাখ্যা প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাহমান দুইটি ভিন্ন ভিন্ন সাগরের মধ্যে একটি অদৃশ্য ব্যবধানের অবস্থান রয়েছে, যার ফলে পাশাপাশি প্রবাহিত হওয়া স্বত্ত্বেও দুইটি সাগরের পানি পরস্পরের সাথে মিশে মিশ্রনে পরিণত হয়না।


বিশিষ্ট সমুদ্রবিজ্ঞানী ও যুক্তরাষ্ট্রের কলারাডো বিম্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. উইলিয়াম হে কুরআনে উল্লিখিত এই তথ্যটির বৈজ্ঞানিক সত্যতা প্রকাশ করেন।


কুরআনে বর্ণিত হয়েছে,


أَمَّن جَعَلَ الْأَرْضَ قَرَارًا وَجَعَلَ خِلَالَهَا أَنْهَارًا وَجَعَلَ لَهَا رَوَاسِيَ وَجَعَلَ بَيْنَ الْبَحْرَيْنِ حَاجِزًا


বল তো কে পৃথিবীকে বাসোপযোগী করেছেন এবং তার মাঝে মাঝে নদ-নদী প্রবাহিত করেছেন এবং তাকে স্থিত রাখার জন্যে পর্বত স্থাপন করেছেন এবং দুই সমুদ্রের মাঝখানে অন্তরায় রেখেছেন। (সূরা নমল, আয়াত: ৬১)


পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে দুই নদী বা সমুদ্রের মধ্যে এই বিষয়টি লক্ষ করা গেছে।


কিন্তু যখনই কুরআনে স্বাদু পানি এবং নোনা পানির পাশাপাশি চলার উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে এক অলঙ্ঘনীয় ব্যবধানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


وَهُوَ الَّذِي مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ هَـٰذَا عَذْبٌ فُرَاتٌ وَهَـٰذَا مِلْحٌ أُجَاجٌ وَجَعَلَ بَيْنَهُمَا بَرْزَخًا وَحِجْرًا مَّحْجُورًا


অর্থ: তিনিই সমান্তরালে দুই সমুদ্র প্রবাহিত করেছেন, একটি মিষ্ট, তৃষ্ণা নিবারক ও অন্যটি লোনা, বিস্বাদ; উভয়ের মাঝখানে রেখেছেন একটি অন্তরায়, একটি দুর্ভেদ্য ব্যবধান। (সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৫৩)


আধুনিক বিজ্ঞান আবিস্কার করেছে, নদীর মোহনায় যেখানে নদীর পানি সাগরের পানির সাথে একত্রিত হয়, সেখানকার ব্যবধান দুই সাগরের মধ্যকার ব্যবধান থেকে একটু ভিন্ন ধরনের। নদী ও সাগরের মোহনায় দেখা যায়, সেখানকার একটি নির্দিষ্ট ভিন্ন স্থানে দুই স্তরের ব্যবধান বিদ্যমান রয়েছে। এই নির্দিষ্ট স্থানটি নদীর মিষ্টি পানি ও সাগরের লবনাক্ত পানি উভয়টিই থেকে ভিন্ন। এই নির্দিষ্ট স্থানটিই নদীর স্বাদু পানি এবং সমুদ্রের নোনা পানি, উভয়ের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখে।

আপনার মতামত লিখুন :